TRENDING:

Supreme Court: ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে গিয়েছিল ছেলে, একদিন ঘটল সেই ঘটনা! কোন যন্ত্রণা থেকে ছেলের ‘নিষ্কৃতি মৃত্যু’ চাইছিলেন বাবা-মা? কী হয়েছিল হরিশ রানার?

Last Updated:
ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে গিয়েছিল গিয়েছিল আর পাঁচটা ছেলের মতো৷ তারপর শয্যাশায়ী ছেলে৷ আশপাশের কোনও কিছুর তো বটেই, নিজের অস্তিত্বও বুঝতে পারতেন হরিশ রানা৷ চোখে জল নিয়ে তাঁর ‘নিষ্কৃতি মৃত্যু’র রায় পড়লেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি৷
advertisement
1/10
ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে গিয়েছিল,একদিন ঘটল সেই ঘটনা! কেন ছেলের ‘নিষ্কৃতি মৃত্যু’ চাইল বাবা-মা?
২০১৩ সালের ২০ অগাস্ট৷ তিরিশোর্ধ্ব হরিশ রানার জীবনটা থমকে গিয়েছিল ওই দিনই৷ থমকে গিয়েছিল? নাকি ‘শেষ’ হয়ে গিয়েছিল? যে প্রশ্নের উত্তরে লুকিয়ে রয়েছে দ্বিধা, জড়িয়ে রয়েছে বিতর্ক৷ কিন্তু, সমস্তদিক খতিয়ে দেখে ২০২৬ সালের ১১ মার্চ, দীর্ঘ ১৩ বছর পরে তাঁর সসম্মানে ‘মৃত্যু’র অধিকার মেনে নিল সুপ্রিম কোর্ট৷ একটি বেনজির রায়ে গাজিয়াবাদের হরিশ রানার লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম ধীরে ধীরে সরিয়ে তাঁর ‘নিষ্কৃতি মৃত্যু’র অনুমতি দিল দেশের শীর্ষ আদালত৷ যা দেশের ইতিহাসে প্রথম৷
advertisement
2/10
ঝকঝকে, চনমনে একটা ছেলে৷ দিল্লির মহাবীর এনক্লেভের বাসিন্দা৷ স্কুলের গণ্ডি পেরনোর পরে আর পাঁচটা ছাত্রের মতোই ভর্তি হয়েছিল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে৷ মোহালির চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ছিল৷ থাকত, স্থানীয় একটি মেস-এ৷ সেই মেসেই একদিন ঘটল সেই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা৷
advertisement
3/10
২০১৩ সালের ২০ অগাস্ট মেসে-এর চারতলা থেকে পড়ে গেলেন হরিশ৷ কত হবে, তখন তাঁর বয়স ২০-র কোঠায়৷ ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত পান৷ প্রাণরক্ষা হলেও অকেজো হয়ে পড়ে শরীরের সমস্ত অঙ্গ৷ বাবা-মায়ের দাবি ছিল, ঘটনার পিছনে কোনও ‘রহস্য’ নিশ্চই লুকিয়ে রয়েছে৷ থানায় এ নিয়ে অভিযোগও দায়ের করেছিলেন তাঁরা৷
advertisement
4/10
কিন্তু, সেই ঘটনার পর থেকে আর সজ্ঞানে ফিরতে পারেনি হরিশ৷ ছেলেকে সুস্থ করে তোলার জন্য একের পর এক বড় হাসপাতাল ঘুরতে শুরু করেন হরিশের বাবা-মা। দীর্ঘদিন চণ্ডীগড়ের পিজিআই-তে হরিশের চিকিৎসা হয়। পরে এইমস, রামমনোহর লোহিয়া, লোকনায়ক এবং দিল্লির ফর্টিস হাসপাতালেও দেখানো হয় তাঁকে। কিন্তু শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি।
advertisement
5/10
ডাক্তারি পরিভাষায় কোয়াড্রিপ্লেজ়িয়া৷ সাধারণের বোধগম্য ‘পার্সিস্টেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেট’৷ বছরের পর বছর ধরে শ্বাস প্রশ্বাস এবং খাবারের জন্য টিউবের উপর নির্ভর করে বিছানাতেই বন্দি থাকতে হচ্ছিল তাঁকে৷
advertisement
6/10
ছেলেকে এ ভাবে তিলে তিলে শেষ হয়ে যেতে দেখে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন হরিশের বৃদ্ধ বাবা-মা৷ তাঁদের আবেদন ছিল, মেডিক্যাল বোর্ড বসিয়ে ছেলেকে প্যাসিভ ইউথেনসিয়া (নিষ্কৃতিমৃত্যু) দেওয়া হোক। ২০১৩ সাল থেকে যে অবস্থায় রয়েছেন তার উন্নতি তো হয়নি, বরং আরও জটিলতা বাড়ছিল দিন দিন৷
advertisement
7/10
আদালতে হরিশের বাবা-মা জানিয়েছিলেন, তাঁদের বয়স হচ্ছে৷ এখন তাঁদের চিন্তা হয়, তাঁরা না থাকলে তাঁদের ছেলেকে কে দেখবে? এর চেয়ে তাঁর সম্মানজনক মৃত্যুর অধিকার রক্ষিত হোক৷
advertisement
8/10
২০২৫ সালে নভম্বর মাসে ওই একই আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন হরিশের বাবা-মা। কিন্তু তখন আবেদন গ্রাহ্য হয়নি। বলা হয়েছিল, রোগীকে বাড়িতেই রাখা হবে এবং চিকিৎসকেরা নিয়মিত তাঁকে দেখতে যাবেন। উত্তরপ্রদেশ সরকারের সহযোগিতায় তাঁর চিকিৎসা চলবে। কিন্তু, আদালতের রায়ের পরেও হরিশের বাবা-মা সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিলেন, তাঁদের সন্তানের শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। তাঁকে মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন।
advertisement
9/10
অবশেষে, বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ বুধবার দিল অনুমতি৷ রায় পড়ার সময়ে বিচারপতি পারদিওয়ালা বলেন, হরিশ রানা একসময়ে ছিলেন ‘একজন উজ্জ্বল তরুণ ছাত্র’। দুর্ঘটনার আগে তিনি মন দিয়ে পড়াশোনা করছিলেন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা তাঁর জীবন সম্পূর্ণ বদলে দেয়’। সেই ঘটনা উল্লেখ করতে গিয়েই বিচারপতি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁর গলা বুজে আসে। কিছুক্ষণের জন্য রায় পড়া থেমে যায়।
advertisement
10/10
রায়ে সুপ্রিম কোর্ট এদিন বলেছে, রোগীর মৃত্যু তাঁর স্বার্থে কি না, তা এই ধরনের ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়; বরং জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া আদৌ তাঁর স্বার্থে কি না সেটাই বিবেচনা করা উচিত। আদালত আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ক্লিনিক্যালি দেওয়া পুষ্টিকেও (feeding tube) চিকিৎসার অংশ হিসেবে ধরা হবে। তাই চিকিৎসক বোর্ড যদি মনে করে রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাহলে সেই চিকিৎসাও প্রত্যাহার করা যেতে পারে।
বাংলা খবর/ছবি/দেশ/
Supreme Court: ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে গিয়েছিল ছেলে, একদিন ঘটল সেই ঘটনা! কোন যন্ত্রণা থেকে ছেলের ‘নিষ্কৃতি মৃত্যু’ চাইছিলেন বাবা-মা? কী হয়েছিল হরিশ রানার?
দেশের সব লেটেস্ট খবর ( National News in Bengali ) এবং বিদেশের সব খবর ( World News in Bengali ) পান নিউজ 18 বাংলায় ৷ দেখুন ব্রেকিং নিউজ এবং টপ হেডলাইন নিউজ 18 বাংলার লাইভ টিভিতে ৷ ডাউনলোড করুন নিউজ 18 বাংলার অ্যাপ অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস-এ ৷ News18 Bangla-কে গুগলে ফলো করতে ক্লিক করুন এখানে ৷
Open in App
হোম
খবর
ফটো
লোকাল