১,০০,০০০ এরও বেশি ভোট ঝুলিতে! BNP থেকে 'বহিষ্কৃত' কে এই 'ব্যারিস্টার' রুমিন ফারহানা...? লন্ডন ফেরত মেয়ের গল্প যেন সিনেমা!
- Published by:Sanjukta Sarkar
- news18 bangla
Last Updated:
Rumin Farhana Bangladesh Election 2026:
advertisement
1/11

১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অভূতপূর্ব প্রত্যাবর্তনের দিন। নির্বাচনের ফলাফল ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। ঝোড়ো জয়ের হাত ধরে একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে বিএনপি। আর এই প্রেক্ষাপটে আজ পড়শী দেশের রাজনীতিতে একটি নাম বারবারই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। সেই নাম হল রুমিন ফারহানা। এমন একজন নারী যিনি তাঁর দৃঢ় সংকল্প এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে স্বপ্ন বাস্তব হয়।
advertisement
2/11
প্রাক্তন দল বিএনপি তাঁকে বহিস্কৃত করেছে। কিন্তু ক্ষমতাচ্যুত করার পরেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেছেন রুমিন। বাংলাদেশের নির্বাচনের ঐতিহাসিক এই মুহূর্তে আসুন জেনে নেওয়া যাক এক মহিলার গল্প যা কোনও অংশে সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়ে কিছু কম নয়।
advertisement
3/11
<span style="color: #0000ff;"><strong>ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির প্রতি অনুরাগী:</strong></span>১৯ অগাস্ট, ১৯৮১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগরে রুমিনের জন্ম। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও ভাষা আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট নেতা ছিলেন পিতা অলি আহাদ। বাড়িতে রাজনৈতিক আলোচনা শুনে বড় হওয়া রুমিন বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি তাঁর বাবার সভাগুলিতে যোগ দিতেন এবং দেশে এক পরিবর্তন আনার স্বপ্ন দেখতেন।
advertisement
4/11
ঢাকার হলি ক্রস স্কুলে পড়াশোনা। তারপরে ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করা। কিন্তু রুমিনের আসল সাফল্য আসে যখন তিনি লন্ডনে যান, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন ডিগ্রি অর্জন করেন এবং লিংকন'স ইন থেকে ব্যারিস্টার হন রুমিন।
advertisement
5/11
এরপর বাংলাদেশে ফিরে এসে হাইকোর্টে আইন অনুশীলন শুরু করেন রুমিন। সেখানেই অনেক হাই-প্রোফাইল মামলায় দাপটের সঙ্গে লড়াই করেন তিনি। এই শিক্ষা এবং পেশাদারিত্ব তাঁকে অচিরেই যারপরনাই শক্তিশালী করে তোলে, যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ক্ষেত্রেও বড় ট্রাম কার্ড হয়ে ওঠে।
advertisement
6/11
বিএনপি দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেছিলেন রুমিন, কিন্তু দল যখন তাঁকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপরেই জীবনে আসে নতুন মোড়। বস্তুত রুমিন বিএনপিতে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। অচিরেই দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হন তিনি এরপর ২০১৯ সালে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন থেকে সংসদে প্রবেশ করেন রুমিন। অচিরেই একজন শক্তিশালী বিরোধী কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন রুমিন। শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে হয়ে ওঠেন এক বড় চ্যালেঞ্জ।
advertisement
7/11
২০২২ সালে পদত্যাগ করেন রুমিন। তারপর, ২০২৫-২৬ নির্বাচনের আগে, বিএনপি তাঁকে শৃঙ্খলাহীনতার অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করে দেয়। কিন্তু রুমিন হাল ছাড়তে রাজি ছিলেন না। নির্দল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে রুমিন বলেন, "আমি দলের জন্য নয়, জনগণের জন্য লড়ব"।
advertisement
8/11
<span style="color: #0000ff;"><strong>হাঁস প্রতীকে জয়:</strong></span>১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ এবং বিজয়নগরের কিছু অংশ) থেকে হাঁস প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন রুমিন। ভোটের ফলাফল বলছে, তিনি ১,১৭,৪৯৫ ভোট পেয়েছেন, যেখানে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব (বিএনপি জোট) পেয়েছেন ৭৯,৯২৭ ভোট। জয়ের ব্যবধান ছিল ৩৭,৫৬৮ ভোট।
advertisement
9/11
বাংলাদেশের স্থানীয় সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, ১৫১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০০টিতে তিনি ২৬,৮৩৪ ভোটে এগিয়ে আছেন। ডেইলি স্টার জানিয়েছে প্রাথমিক ৪৫টি কেন্দ্রে তিনি ৩৪,৪৬০ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। অন্যদিকে আরও একটি দেশীয় সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, সহকারী রিটার্নিং অফিসার আবু বকর সিদ্দিক মধ্যরাতে রুমিনের জয় নিশ্চিত করেছেন।
advertisement
10/11
<span style="color: #0000ff;"><strong>রুমিনের জয়ের অর্থ কী?</strong></span>রুমিনের এই জয় ঐতিহাসিক, কারণ ২০২৪ এর ছাত্র আন্দোলনের পর এটি ছিল প্রথম বড় নির্বাচন যেখানে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। দেশের মানুষ রুমিনের জয়কে "বিদ্রোহী জয়" বলছে। আগামী দিনে সংসদে দেখা যাবে লড়াকু রুমিনকে। যদিও নির্দল সাংসদ হিসেবে তাঁর পথ ফুল বিছানো হবে না সে কথা বলাই বাহুল্য।
advertisement
11/11
আগামী দিনে এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা এবং নারী অধিকারের উপর মনোযোগ দেবেন বলেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন রুমিন। তাঁর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তাঁকে নিঃসন্দেহে অনন্য জায়গা করে দিয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। তাই তাঁর গল্প ছুঁয়ে গিয়েছে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে। তাঁর জয়কে তাই প্রতিটি স্বপ্ন দেখা মহিলার জয় হিসেবেই দেখছেন সে দেশের মানুষ। এমনটাই বলছেন সে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।