‘এখন অনুশোচনা করছেন...’, ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে রেহমান ডাকাতের চরিত্রে অভিনয় করতে রাজি হননি অনেক অভিনেতাই, এবার খোঁচা দিলেন মুকেশ ছাবড়া !
- Reported by:BENGALI NEWS18
- Published by:Siddhartha Sarkar
Last Updated:
আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর জন্য কাস্টিং করা মোটেও সহজ ছিল না। মুকেশ ছাবড়া জানান, অনেক অভিনেতাই এই ছবির অংশ হতে রাজি হননি, কারণ তাঁরা মাল্টি-স্টারার ছবিতে কাজ করতে চাননি। বিশেষ করে ‘রহমান ডাকাত’-এর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের জন্য সঠিক অভিনেতা খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল।
advertisement
1/7

'ধুরন্ধর' মুক্তির আগে সারা অর্জুনের কাস্টিং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, কিন্তু মুক্তির পর ছবিটির প্রতিটি চরিত্রই দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়। কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবড়া এখন 'ধুরন্ধর'-এর জন্য তাঁর কাস্টিংয়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন এবং জানিয়েছেন যে রেহমান ডাকাতের চরিত্রের জন্য অক্ষয় খান্না প্রথম পছন্দ ছিলেন না। তাঁর আগে আরও অনেক অভিনেতাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কেউ রাজি হননি। আর এখন তাঁরা সেই চরিত্রে অভিনয় করতে না পারার জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে ফোন করেন। রণবীর সিং এবং সঞ্জয় দত্তের মতো তারকাদের দুর্দান্ত অভিনয়ের পাশাপাশি মুকেশ ছাবরার চমৎকার কাস্টিংয়ের সুবাদে ‘ধুরন্ধর ২’ মাত্র ছয় দিনে বিশ্বব্যাপী ৯০০ কোটি টাকার অঙ্ক পার করেছে।
advertisement
2/7
কাস্টিং ডিরেক্টর সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, রেহমান ডাকাতের চরিত্রের জন্য অক্ষয় খান্না প্রথম পছন্দ ছিলেন না। তাঁর আগে আরও অনেক অভিনেতাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সবাই রাজি হননি। ‘ধুরন্ধর’ মুক্তির পর তাঁরা চরিত্রটি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য এখন অনুশোচনা করছেন, বলছেন তিনি। আগের চলচ্চিত্রগুলিতে বেশিরভাগ অভিনেতার একজন খলনায়ক, একজন মা, একজন বোন এবং একজন ড্রাইভারের মতো চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ থাকত। অভিনেতারা হয় টাইপকাস্ট হওয়ার অভিযোগ করতেন, অথবা এই ধারা মেনে নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতেন। তবে, বর্তমানে কাস্টিং চলচ্চিত্র নির্মাণের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে।
advertisement
3/7
কাস্টিং জগতে মুকেশ ছাবড়া একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তিনি তাঁর ২০ বছরের কর্মজীবনে ৩০০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে কাস্টিং করেছেন এবং ‘ধুরন্ধর ২’ তাঁর সবচেয়ে বড় হিট হয়েছে। মুকেশ ছাবড়া ‘রং দে বসন্তী’ ছবির মাধ্যমে কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির কাস্টিং তাঁর কর্মজীবনে কী প্রভাব ফেলেছিল এবং বর্তমানে কাস্টিং কীভাবে বদলে গিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “বলিউডে প্রত্যেক পরিচালকের একজন কাস্টিং ডিরেক্টর থাকেন।” এই বিষয়টি আমাদের গল্প বলার ধরন বদলে দিয়েছে।
advertisement
4/7
আজকাল চলচ্চিত্রে কাস্টিং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের দ্বারা চালিত হলেও, মুকেশ ছাবড়া বলেছেন, ‘‘আমরা ডেটা সংগ্রহ করতে থাকি, কিন্তু আমি একটি স্ক্রিপ্ট পাওয়ার পরেই সেটির ওপর মনোযোগ দিই। ব্যক্তিগতভাবে, আমি ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে প্রতিভা খুঁজে বের করি না।’’ তিনি এখনও অডিশনের মাধ্যমে কাস্টিংয়ের ওপরই নির্ভর করেন। 'ধুরন্ধর' ছবিতে রেহমান ডাকাত চরিত্রে অভিনয়ের জন্য অভিনেতা নির্বাচন করতে গিয়ে যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল, সে প্রসঙ্গে মুকেশ ছাবড়া বলেন, ‘‘আমরা ছবিটির জন্য বেশ কয়েকজন অভিনেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম, কিন্তু তাঁরা বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও রাজি হচ্ছিলেন না, কারণ তাঁরা একাধিক তারকা সমৃদ্ধ কোনও ছবির অংশ হতে চাননি।’’
advertisement
5/7
রেহমান ডাকাতের চরিত্রে অক্ষয় খান্না ছিলেন একেবারে মানানসই। কসমেটিক পরিবর্তন ছাড়া কাস্টিং প্রসঙ্গে মুকেশ ছাবড়া বলেন, "অনেক সময় একজন অভিনেতার জন্য কোনও বিশেষ লুক তৈরি করার প্রয়োজন হয় না। মজার ব্যাপার হল, যে সব অভিনেতা চরিত্র ফিরিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা অনুশোচনা প্রকাশ করে আবার যোগাযোগ করেছেন।" অক্ষয় খান্নার কাস্টিং প্রসঙ্গে মুকেশ ছাবড়া বলেন, "অক্ষয় খান্নার নাম সবার শেষে আসে। আমি যখন প্রথম ওঁকে ফোন করি, উনি বলে, 'আপনি কি পাগল?' কিন্তু আমি ওঁকে অন্তত গল্পটা শুনতে বলি।
advertisement
6/7
গল্প শোনার পর অক্ষয় বলেন, 'চমৎকার,' এবং একদিনের মধ্যেই চরিত্রটির জন্য রাজি হয়ে যান। আর মাধবনও সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যান। আমি ওঁকে বলি, ‘‘বিশ্বাস করুন, আমার হাতে মাত্র ১০-১২ দিন আছে।' উনি সঙ্গে সঙ্গে হ্যাঁ বলে দেন। উনি ওঁর অভিনয়ে এক নতুন শক্তি এনেছিলেন। কোনও অ্যাকশন ছিল না— উনি শুধু শান্তভাবে কথা বলে যাচ্ছিলেন এবং একবারও নিয়ন্ত্রণ হারায়নি।’’
advertisement
7/7
মুকেশ ছাবড়া কাস্টিং নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি অভিনয় নিয়ে ভাবি না। আমি শুধু আমার চরিত্রের জন্য অভিনেতা বাছাইয়ের দিকেই মনোযোগ দিই। অভিনয় খুব ভাল না হলেও, যদি আমার মনে হয় অভিনেতা চরিত্রটির জন্য উপযুক্ত, আমি তাঁকেই বেছে নেব।’’ ‘ধুরন্ধর ২’-এর কাস্টিং নিয়েও তিনি একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘‘আমি এই ছবির প্রত্যেকটি মানুষকে কাস্ট করেছি। আমার টিম এই ছবির জন্য ২০০ জনকে কাস্ট করতে দুই বছর সময় ব্যয় করেছে।" সারা অর্জুনের কাস্টিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "যখন আমি ওঁর অডিশন দেখি, আমি তো পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। রণবীর সিং একজন ভারতীয় এজেন্ট হিসেবে প্রকাশিত হওয়ার পর সারা যখন তাঁর মুখোমুখি হন, সেই দৃশ্যটি অসাধারণ ছিল।’’