Why Gold-Silver Prices are falling Explained: যুদ্ধের আগুনেও কেন মুখ থুবড়ে পড়ছে সোনা-রুপোর দাম! আসল কারণ জানলে চমকে যাবেন!
- Published by:Soumendu Chakraborty
Last Updated:
ইরান যুদ্ধ চললেও শক্তিশালী ডলার এবং আমেরিকায় সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনার কারণে সোনা-রুপোর দামে চাপ তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে না দেখে ডলার ও মার্কিন সরকারি বন্ডকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। সেই কারণেই গত কয়েক মাসে সোনা ও রুপোর দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে।
advertisement
1/5

সাধারণভাবে মনে করা হয়, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ বা অনিশ্চয়তার পরিস্থিতি তৈরি হলে মানুষ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনা-রুপোর দিকে ঝোঁকে এবং দাম বাড়তে থাকে। কিন্তু বর্তমানে ইরান সংকটের মধ্যেও চিত্রটা একেবারে উল্টো। সাম্প্রতিক সময়ে সোনার দাম প্রায় ১.৭৫ লাখ টাকা থেকে নেমে ১.৫ লাখের নিচে চলে এসেছে। একইভাবে রুপোও প্রায় ৩ লাখ ছুঁয়ে এখন ২.৫ লাখের নিচে লেনদেন হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে—ইতিহাসের বিপরীতে এবার যুদ্ধের মাঝেও কেন পড়ছে দাম? চলুন, এর কারণগুলো সহজভাবে বোঝা যাক।
advertisement
2/5
ইতিহাস বলছে, ১৯৬৭ সালের আরব-ইজরায়েল যুদ্ধ, ১৯৭৯ সালের ইরান বিপ্লব এবং ১৯৯০ সালের গালফ যুদ্ধের সময় সোনার দামে বড় উত্থান দেখা গিয়েছিল। ১৯৭৯ সালে তো সোনা ২০০ ডলার থেকে বেড়ে ৮০০ ডলার প্রতি আউন্সে পৌঁছেছিল। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুতেও সোনার দাম বেড়েছিল। রুপো সাধারণত সোনার পথই অনুসরণ করে, যদিও বর্তমানে এর বড় অংশ শিল্পক্ষেত্রে—বিশেষ করে সোলার প্যানেল ও ইলেকট্রনিক্সে—ব্যবহৃত হয়, ফলে এতে ওঠানামা বেশি হয়। তবে এবার শুরুতে দাম বাড়লেও গত চার মাসে দুই ধাতুই নিম্নস্তরে নেমে এসেছে।
advertisement
3/5
ডলারের শক্তি বড় কারণদাম কমার অন্যতম প্রধান কারণ হল মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা-রুপোর দাম ডলারে নির্ধারিত হয়। ডলার শক্তিশালী হলে ভারত ও চীনের মতো বড় আমদানিকারক দেশগুলির জন্য সোনা কেনা বেশি খরচসাপেক্ষ হয়ে পড়ে, ফলে চাহিদা কমে যায় এবং দাম পড়তে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা সোনার বদলে ডলারকেই বেশি নিরাপদ (‘সেফ হেভেন’) হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। বিশ্বের বড় বড় ব্যাংক ও বিনিয়োগ সংস্থাগুলিও ডলারে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। ইতিহাস অনুযায়ী, ডলার ও সোনার দামের মধ্যে প্রায়শই উল্টো সম্পর্ক দেখা যায়।
advertisement
4/5
বাড়তে পারে সুদের হারদ্বিতীয় বড় কারণ হল যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা। সোনা বা রুপোতে বিনিয়োগে নিয়মিত সুদ পাওয়া যায় না। অন্যদিকে, যদি মার্কিন সরকারি বন্ড বা ব্যাংকে বেশি সুদ পাওয়া যায়, তাহলে বড় বিনিয়োগকারীরা সেখানেই অর্থ রাখতে আগ্রহী হন। ইরানের কারণে স্ট্রেট অফ হরমুজে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলার প্রতি ব্যারেলের উপরে উঠে গেছে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর বদলে বাড়ানো বা স্থির রাখার কথা ভাবছে।
advertisement
5/5
ফলে বিনিয়োগকারীরা কম লাভজনক সোনা বিক্রি করে সেই অর্থ মার্কিন বন্ডে বিনিয়োগ করছেন। সব মিলিয়ে, সোনা-রুপোর দামে পতনের প্রধান কারণ হল শক্তিশালী ডলার এবং মার্কিন বন্ডে বাড়তি লাভের সম্ভাবনা। এখন বিনিয়োগকারীদের নজর যুদ্ধের দিকে যতটা না, তার চেয়ে বেশি ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও মূল্যবৃদ্ধির দিকে।
বাংলা খবর/ছবি/ব্যবসা-বাণিজ্য/
Why Gold-Silver Prices are falling Explained: যুদ্ধের আগুনেও কেন মুখ থুবড়ে পড়ছে সোনা-রুপোর দাম! আসল কারণ জানলে চমকে যাবেন!