ভেনেজুয়েলার তেল সৌদি আরবের থেকেও বেশি! তাও এমন 'হাঁড়ির হাল' কেন? ভারতে এর কী প্রভাব পড়তে পারে জেনে নিন!
- Published by:Tias Banerjee
Last Updated:
বিশ্বের বৃহত্তম তেল ভান্ডার থাকা সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলা অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে, নিকোলাস মাদুরো গ্রেফতার, আমেরিকার হস্তক্ষেপে ভারতের তেল আমদানিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা।
advertisement
1/17

সৌদি আরবের থেকেও বেশি তেল ভান্ডার থাকা সত্ত্বেও আজ অর্থনৈতিক সঙ্কটে জর্জরিত ভেনেজুয়েলা। এক সময় যে দেশ ছিল বিশ্বের চতুর্থ ধনী রাষ্ট্র, যেখানে মানুষ সপ্তাহান্তে শপিং করতে মায়ামি উড়ে যেত, সেই দেশই গত এক দশকে নিজের জিডিপির প্রায় ৮০ শতাংশ হারিয়েছে। (Representative Image: AI)
advertisement
2/17
এই প্রতিবেদন ভেনেজুয়েলার—একটি এমন দেশের কাহিনি, যার হাতে ছিল বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ, কিন্তু সেই সম্পদের অপব্যবহারই আজ দেশটিকে ঠেলে দিয়েছে ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে।
advertisement
3/17
দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশে শনিবার, ৩ জানুয়ারি, আমেরিকার হামলার পর প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের এই রাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে পারে ভারতের মতো দেশগুলির উপরও।
advertisement
4/17
১৯৫০-এর দশক: যখন ভেনেজুয়েলার দিন ফিরছিলদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত সারাতে ব্যস্ত ছিল গোটা বিশ্ব, সেই সময় ভেনেজুয়েলার ভাগ্য বদলে যায় মাটির নিচের ‘কালো সোনা’—তেলের জোরে।১৯৫২ সালের মধ্যেই ভেনেজুয়েলা হয়ে ওঠে বিশ্বের চতুর্থ ধনী দেশ। রাজধানী কারাকাসের রাস্তায় সারি সারি বিলাসবহুল গাড়ি, মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আকাশছোঁয়া অট্টালিকা।
advertisement
5/17
১৯৬০-এর দশকে ভেনেজুয়েলা শুধু তেল রফতানিকারক দেশই ছিল না। তাদের উদ্যোগেই গড়ে ওঠে ওপেক (OPEC), যেখানে সৌদি আরব, ইরান-সহ একাধিক তেলসমৃদ্ধ দেশ একজোট হয়।
advertisement
6/17
১৯৭০-এর দশকে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হলে ডলারে ভরে ওঠে ভেনেজুয়েলার ঘরবাড়ি। সেই সময়ের গল্প আজও কিংবদন্তি—মানুষ সাপ্তাহিক ছুটিতে সরাসরি মায়ামি যেত শপিং করতে। বিশ্বের সবচেয়ে দামি স্কচ হুইস্কি ও শ্যাম্পেনের অন্যতম বড় ক্রেতা ছিল ভেনেজুয়েলা। মানুষের মধ্যে কাজ করার প্রয়োজনীয়তাই যেন কমে গিয়েছিল। মাথাপিছু আয়ে তারা স্পেন, গ্রিস, ইজরায়েলের মতো উন্নত দেশকেও ছাপিয়ে যায়। (Representative Image: AI)
advertisement
7/17
১৯৭৬ সালে সরকার তেল শিল্প জাতীয়করণ করে এবং গড়ে তোলে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা PDVSA, যা দ্রুত বিশ্বের অন্যতম লাভজনক তেল সংস্থায় পরিণত হয়।
advertisement
8/17
পতনের শুরু: অর্থনীতি ধসে পড়ার তিন প্রধান কারণ---যুদ্ধ ছাড়াই ইতিহাসের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখেছে ভেনেজুয়েলা। গত দশ বছরে তারা হারিয়েছে গত ৭০ বছরে অর্জিত প্রায় সবকিছু। (Representative Image: AI)
advertisement
9/17
ডাচ ডিজিজ: ভেনেজুয়েলা পুরোপুরি তেলের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কৃষি, শিল্প বা বিকল্প ব্যবসা কার্যত উপেক্ষিত হয়। ফলস্বরূপ, সূচ থেকে খাদ্য—সব কিছুর জন্যই বিদেশের উপর নির্ভর করতে হয়, তেলের বিনিময়ে পণ্য কিনতে শুরু করে দেশটি। (Representative Image: AI)
advertisement
10/17
জনপ্রিয়তামুখী নীতি: ১৯৯৯ সালের পর সরকার ভবিষ্যতে বিনিয়োগের বদলে বিপুল অর্থ ব্যয় করে ভর্তুকি ও ফ্রিবিতে। তেলের দাম বেশি থাকাকালীন সমস্যা বোঝা যায়নি, কিন্তু দাম পড়তেই সরকার কর্মীদের বেতন দেওয়ার ক্ষমতাও হারায়। (Representative Image: AI)
advertisement
11/17
দুর্নীতি ও মেধা-পলায়ন: PDVSA-তে দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারদের জায়গায় বসানো হয় রাজনৈতিক অনুগামীদের। ফলে তেল উৎপাদনের প্রযুক্তি ভেঙে পড়ে। একই সঙ্গে প্রায় ৬০ লক্ষ শিক্ষিত মানুষ—ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার—দেশ ছেড়ে চলে যান। (Representative Image: AI)
advertisement
12/17
বর্তমান চিত্র: ৮০ শতাংশ জিডিপি উধাও, আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি ২০১৮ সালে ভেনেজুয়েলায় মুদ্রাস্ফীতি ছাড়িয়ে যায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার শতাংশ। এক ডজন ডিম কিনতেও মানুষকে বস্তাভর্তি নোট নিয়ে যেতে হত। টাকা গোনা হত না, ওজন করা হত।
advertisement
13/17
নব্বইয়ের দশকের শেষে যে দেশ দিনে ৩৫ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদন করত, ২০২৬ সালের শুরুতে তা নেমে আসে মাত্র ৮ লক্ষ থেকে ১১ লক্ষ ব্যারেলে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এমনকি তেল আমদানি করতে হচ্ছে বিদেশ থেকে। (Representative Image: AI)
advertisement
14/17
২০১২ সালে ভেনেজুয়েলার জিডিপি ছিল ৩৭২.৫৯ বিলিয়ন ডলার। ২০২০ সালে তা নেমে আসে ৪৩.৭৯ বিলিয়ন ডলারে। বর্তমানে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রায় ১০১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। (Representative Image: AI)
advertisement
15/17
বর্তমান সঙ্কট: আমেরিকা কি ভাগ্য ফেরাতে পারবে? ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই সামরিক অভিযানের পর আমেরিকার তেল সংস্থাগুলি ভেনেজুয়েলায় বিপুল বিনিয়োগ করবে এবং ভেঙে পড়া পরিকাঠামো মেরামত করবে। তবে বাস্তবে কতটা পরিবর্তন আসবে, তা নির্ভর করবে সেখানে গঠিত নতুন সরকারের উপর। যদি আমেরিকা-সমর্থিত স্থিতিশীল সরকার ক্ষমতায় আসে, তবে দীর্ঘদিনের কড়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলার তেল আবার বড় আকারে বিশ্ববাজারে প্রবেশ করবে।
advertisement
16/17
ভারতের উপর প্রভাব: সস্তা তেলের সম্ভাবনা ভেনেজুয়েলা প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার দূরে হলেও, সেখানে ক্ষমতার বদল ভারতের পক্ষে লাভজনক হতে পারে। পেট্রোল-ডিজেল: ভারত তার প্রয়োজনের প্রায় ৮৫ শতাংশ তেল আমদানি করে। ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল ভান্ডার থাকলেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত এতদিন সেখান থেকে তেল কিনতে পারেনি। নিষেধাজ্ঞা উঠলে রাশিয়ার মতোই ছাড়ে তেল পেতে পারে ভারত, যার প্রভাব পড়তে পারে পেট্রোল-ডিজেলের দামে। (Representative Image: AI)
advertisement
17/17
রিলায়েন্স ও ওএনজিসি: ভেনেজুয়েলার ভারী ও ঘন তেল পরিশোধনে বিশ্বের সেরা রিফাইনারিগুলির একটি রয়েছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের। নিষেধাজ্ঞার কারণে আমদানি বন্ধ ছিল। এছাড়াও, রাষ্ট্রায়ত্ত ONGC ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগ করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আটকে থাকা অর্থ ফেরত পাওয়া ও ব্যবসা পুনরায় শুরু হওয়ার আশা করছে এই সংস্থাগুলি। এক সময় বাস চালানো মাদুরো, যিনি সত্য সাই বাবার ভক্ত ছিলেন—সেখান থেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হওয়া পর্যন্ত তাঁর উত্থান, আমেরিকার বিরুদ্ধে একাধিক হামলার অভিযোগ এবং শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার—এই সবই আজ ভেনেজুয়েলার অস্থির ইতিহাসেরই অংশ। (Representative Image: AI)
বাংলা খবর/ছবি/ব্যবসা-বাণিজ্য/
ভেনেজুয়েলার তেল সৌদি আরবের থেকেও বেশি! তাও এমন 'হাঁড়ির হাল' কেন? ভারতে এর কী প্রভাব পড়তে পারে জেনে নিন!