বছরের প্রত্যেকদিন দূর দুরন্ত থেকে বহু পর্যটকেরা বীরভূমের এই নলহাটির নলাটেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিতে আসেন। তবে এই মন্দির থেকে কিছু দূরে রয়েছে মা গুহ্যকালী মন্দির। অনেকেই সেই বিষয়ে জানেন না। এই মন্দিরের ইতিহাস ঘাটলে জানা যায় মহারাজ নন্দকুমার এক কালে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে সবার থেকে যেই বিষয়টি অন্য রকম, তা হল এখানকার কালীমূর্তি। আমরা মূলত যে ধরনের কালীপ্রতিমা দেখে অভ্যস্ত, তার থেকে ঠিক অনেকটাই আলাদা এই কালী মূর্তি। এখানে পঞ্চমুণ্ডির আসনের উপরে সর্পবেদীতে প্রতিষ্ঠিত গুহ্য কালী।
advertisement
এই কালীপ্রতিমার প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে রয়েছে অনেক বড় ইতিহাস। জানা যায়, মগধরাজ জরাসন্ধ এই মূর্তিটি নির্মাণ করেছিলেন। কালক্রমে বিভিন্ন রাজার হাতে পুজিত হওয়ার পরে কাশীরাজ চৈত সিংহের রাজত্বে এক কৃষক জমিতে এই দেবী মূর্তিটি খুঁজে পান। ঠিক সেই সময় ওয়ারেন হেস্টিংসের নজরে পড়ে মায়ের এই অপরূপ মূর্তি। শোনা যায়, তিনি নাকি মায়ের এই মূর্তিটিকে ইংল্যান্ডের মিউজিয়ামে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন।
এখানে ব্রাহ্মণী নদীতীরে শ্মশানের পাশে এক নিরিবিলি পরিবেশে আট কোণা ইটের মন্দির স্থাপন করে মায়ের পুজো শুরু করা হয় এক সময়। তন্ত্রসম্মত ভাবে সাধনার উপযোগী এই মন্দিরেই মা গুহ্যকালী নামে পরিচিতি পান, যার নিদর্শন আজও রয়েছে। সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে অবস্থিত রয়েছে এই মন্দিরটি। তাই এবার যদি আপনি বীরভূম ভ্রমণের জন্য আসেন তাহলে অন্ততপক্ষে একবার ঘুরে আসুন এই কালী মন্দির থেকে। আপনার মন মুগ্ধ হতে বাধ্য এই মন্দির গেলে।