প্রসঙ্গত পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম থানার অন্তর্গত ছুঁয়েড়া গ্রামের বাসিন্দা সুচিত্রা বাগদি। কোনও রকম ভাবে স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে ভর্তির পরেও কোনও এক কারণ বশত থেমে যায় পড়াশোনার যাত্রা। এর পরেই ৮ বছর আগে ওই গ্রামেরই যুবক মিলন বাগদিকে বিয়ে করেন সুচিত্রা বাগদি। বর্তমানে তাঁদের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। এখন তার বয়স মাত্র সাত বছর। শুধুমাত্র ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য গ্রাম ছেড়ে ওই দম্পতি চলে আসেন কবিগুরুর লাল মাটির জেলার লাল মাটির শহর বোলপুর শান্তিনিকেতনে।
advertisement
নায়েকপাড়া এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়েই থাকতে শুরু করে দম্পতি। বাড়ি ভাড়া নিয়েই দম্পতির শুরু হয় জীবন যুদ্ধ। সুচিত্রা ও মিলন দু’জনেই কাজের সন্ধান শুরু করেন বিভিন্ন জায়গায়। এরপর মিলন কিছুদিন দিনমজুরের কাজ শুরু করেন, সুচিত্রাও একই ভাবে বোলপুরের একটি চশমার দোকানে প্রতিদিন ২০০ টাকার বেতনে নিযুক্ত হন। তবে বর্তমান সময়ে বোলপুরের মতন জায়গায় ঘর ভাড়া নিয়ে সংসার খরচ, ছেলের পড়াশোনার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তাঁরা। এরপর মিলন দিনমজুরের কাজ ছেড়ে আইসক্রিমের গাড়ি ভাড়া নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে আইসক্রিম বিক্রি শুরু করেন।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঘুরে সেই রোজগার করেও সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল মিলনকে। এরপর স্বামীর পাশে এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চশমার দোকানের কাজ ছেড়ে সুচিত্রাও স্বামীর মতোই প্রত্যেক দিন আইসক্রিমের গাড়ি নিয়ে বেরোতে শুরু করেন। সারাদিন এই গলি থেকে ওই গলি ঘুরে কমবেশি ৭০০-৮০০ টাকা রোজগার করেন তাঁরা। তাঁদের একমাত্র ছেলে সুমন বোলপুরের কুঞ্জবিহারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র। সুচিত্রার ইচ্ছে, তাঁর ভাই অভিনাথ বাগদির মতো তাঁর ছেলেও দেশরক্ষার দায়িত্বে সেনাবাহিনীতে যোগ দিক। সেই লক্ষ্য পূরণ করতেই দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন সুচিত্রা।