মাধ্যমিক পরীক্ষার দিনগুলিতে মেদিনীপুর শহরের মূল রাস্তায় যানজট এড়াতে রবিবার দুপুরে শহরের বিভিন্ন রাস্তার হকারদের সতর্ক করা হয় প্রশাসনের তরফেI রাস্তার উপর দোকানের মালপত্র না রাখতে, ও অবিলম্বে তা সরিয়ে নিতে বলা হয়। পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে শহরের এলআইসি মোড়ে দু’টি টোটো রাখা হচ্ছে INTTUC-র তরফে, যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরীক্ষার্থীদের পরিষেবা দেবে। বিষয়টি জানিয়ে মেদিনীপুর শহর INTTUC-র সভাপতি শেখ লিয়াকত বলেন, “পরীক্ষার্থীদের যাতে সময়মত পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেদিকেই আমাদের এই উদ্যোগ।” অন্যদিকে, মাধ্যমিক চলাকালীন পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছে মেদিনীপুর পুরসভা। রবিবার শহরজুড়ে মাইকিং করে জানান হয়েছে, পরীক্ষার সময়ে শহরে বড় গাড়ি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। পরীক্ষাকেন্দ্রের আশপাশে কোনও বাজার বা দোকান বসান যাবে না। যত্রতত্র পার্কিং থেকেও শহরবাসীকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
advertisement
এছাড়া মাধ্যমিক চলাকালীন মাইক ও লাউডস্পিকার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ডেকোরেটরদেরও এই সময় মাইক ভাড়া না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান জানান, “নির্দেশ অমান্য করলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” এবছর গত বছরের তুলনায় পশ্চিম মেদিনীপুরে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সামান্য বেড়েছে। গত বছর যেখানে পরীক্ষার্থী ছিল ৫৩,১৯৬ জন, সেখানে এবছর রেজিস্ট্রেশন করেছে ৫৮,৭৯০ জন। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৫৬ হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের জেলা মনিটরিং কমিটির আহ্বায়ক সুভাষ হাজরা। পরীক্ষার আগের দিনও দুই ছাত্রীকে অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অমিত রায় জানান, ‘প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের মূল প্রবেশদ্বার ও স্ট্রংরুমে থাকছে সিসিটিভি ক্যামেরা। মোবাইল নিয়ে ঢুকলে পরীক্ষা বাতিল করা হবে। পরীক্ষাকেন্দ্রে পর্যাপ্ত জল ও আলোর ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি জেলার ১১টি এলিফ্যান্ট করিডর এলাকায় পরীক্ষার্থীদের বন বিভাগের তরফে এসকর্ট করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে।’ এছাড়াও জেলা বাস পরিবহণ সংগঠনগুলি জানিয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের বাসভাড়া নেওয়া হবে না।সব মিলিয়ে, পরীক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই সমন্বিত উদ্যোগ।
