১৯৩৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে তিনি দাদা শরৎচন্দ্র বসুর সঙ্গে দার্জিলিং মেল যোগে জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশনে পৌঁছান। সেই বছরই জলপাইগুড়িতে অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন নেতাজি। সম্মেলনের সভাপতি ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও নেতা ড. চারুচন্দ্র সান্যাল।এই সম্মেলন থেকেই জলপাইগুড়ির ইতিহাসে এক অনন্য মুহূর্তের জন্ম। বিশাল জনসমাবেশে নেতাজি প্রথমবার প্রকাশ্যে “ইংরেজ ভারত ছাড়ো” আহ্বান জানান যার প্রতিধ্বনি কয়েক বছর পর ১৯৪২ সালের ঐতিহাসিক ভারত ছাড়ো আন্দোলনে শোনা যায়। তাঁর আগমন উপলক্ষে পান্ডাপাড়ায় আয়োজিত বিশাল জনসভার পর থেকেই এলাকাটি ‘কংগ্রেস পাড়া’ নামে পরিচিতি পায়।জলপাইগুড়িতে অবস্থানকালে নেতাজি বাবুপাড়ায় স্বর্গীয় তারিণী প্রসাদ রায় মহাশয়ের বাড়িতে রাত্রিযাপন করেন। তিনি ঐতিহাসিক বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ি পরিদর্শন করেন এবং জলপাইগুড়ি পৌরসভায় অবস্থিত তৎকালীন পাওয়ার হাউসও ঘুরে দেখেন। নেতাজির স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে ১৯৫১ সালে ওই পাওয়ার হাউস চত্বরে তাঁর স্মরণে দেশের প্রথম মর্মর মূর্তি স্থাপন করা হয়। বর্তমানে এই ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে নেতাজি সুভাষ ফাউন্ডেশন। জলপাইগুড়ির ইতিহাসে নেতাজির পদচিহ্ন স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবময় স্মৃতি বহন করে চলেছে যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জোগায়!
advertisement