ডুয়ার্সের মালবাজার শহরের অদূরে দাঁড়িয়ে রয়েছে এক অনন্য চা-ক্যাফে, যা আজও বহন করে চলেছে ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্য। ১৯১৭ সালে চা-সংস্কৃতির সাক্ষী হয়ে জন্ম নেওয়া এই ক্যাফেতে পা রাখলেই যেন সময়ের কাঁটা ঘুরে যায় এক শতাব্দী পেছনে। আধুনিকতার ভিড়ে দাঁড়িয়েও এখানে অক্ষুণ্ণ রয়েছে ইংরেজ শাসনকালের চা-পানের আবহ। এই ক্যাফের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ তাদের চা তৈরির পদ্ধতি। আধুনিক ঘড়ির বদলে এখনও ব্যবহার করা হয় ইংরেজ আমলের বালিভর্তি সময় মাপার যন্ত্র—যা ‘স্যান্ড পদ্ধতি’ নামে পরিচিত।
advertisement
আরও পড়ুন : নীলকুঠী থেকে প্রাসাদ…অতীতের রাজকীয় গন্ধমাখা স্বাদে ডুব দিতে ইতিহাসপ্রেমীদের ভিড় উৎসবে
নির্দিষ্ট সময় ধরে সেই পদ্ধতিতেই তৈরি হয় সুস্বাদু অর্থোডক্স চা, যার প্রতিটি চুমুকে মেলে অতীতের ঘ্রাণ। ক্যাফেতে রয়েছে তাদের নিজস্ব চা বাগানের ফার্স্ট ফ্লাশ চা-সহ ডুয়ার্স ও পাহাড়ি অঞ্চলের নানা স্বাদের চায়ের সম্ভার। প্রতি কাপ চায়ে ধরা পড়ে স্বাদ, গন্ধ আর ইতিহাসের নিখুঁত মেলবন্ধন—যা চা-প্রেমীদের মন জয় করছেই। পর্যটকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে ক্যাফে চত্বরে রাখা ব্রিটিশ আমলের ভিন্টেজ গাড়ি। সেই গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা, সেলফি নেওয়া—সব মিলিয়ে দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতাকে করে তুলছে আরও স্মরণীয়। চা, ইতিহাস আর নস্টালজিয়ার এই অনন্য সংমিশ্রণ ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পর্যটক ও চা-অনুরাগীদের মধ্যে। ডুয়ার্স ভ্রমণে এলে এই ঐতিহ্যবাহী চা-ক্যাফে এখন অনেকের কাছেই এক অপরিহার্য ঠিকানা।