ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূম জেলার রামপুরহাট থানার অন্তর্গত মাশড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তেঁতুল বাঁধি গ্রামে। মৃত শিশুর নাম শিশু অবিনাশ মুর্মু। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য।
জানা গিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে অবিনাশের সৎ মা তাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির কাছাকাছি মাঠের ধারে বেড়াতে যান। কিন্তু সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও শিশুটি আর বাড়িতে ফিরে আসে না। সৎ মা একা বাড়িতে ফিরে আসায় পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। এরপর শুরু হয় অবিনাশের খোঁজাখুঁজি। দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজ চালিয়েও শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
advertisement
এ দিকে অবিনাশের বাবা মন্দির মুর্মু তাঁর স্ত্রীর কথাবার্তায় অসঙ্গতি লক্ষ্য করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। প্রথমে তিনি জানান, শিশুটি তার সঙ্গে মাঠে গিয়েছিল এবং পরে নিজেই বাড়ি ফিরে এসেছে। কিন্তু পরবর্তীতে চাপের মুখে একাধিক পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিতে থাকেন তিনি। এক সময় দাবি করেন, অবিনাশকে তিনি ঝাড়খণ্ডের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন।
বারবার বক্তব্য বদলানোয় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হলে পরিবার মাশড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের গ্রামীণ পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের খবর দেন। তাঁরা অবিলম্বে বিষয়টি রামপুরহাট থানায় জানালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন রামপুরহাট থানার আইসি ।
আইসি পুলক মণ্ডলের নেতৃত্বে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর ভয়ঙ্কর সত্য প্রকাশ্যে আসে। পুলিশের কাছে অবিনাশের সৎ মা স্বীকার করেন যে তিনি শিশুটিকে মাঠে নিয়ে গিয়ে পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন এবং পরে দেহটি মাঠের মধ্যেই লুকিয়ে রাখেন।
স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবিনাশ মুর্মুর নিথর দেহ উদ্ধার করে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি রামপুরহাট গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত সৎ মাকে গ্রেফতার করেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে রামপুরহাট থানার পুলিশ।
