TRENDING:

Amrit Bharat: লিফট থেকে আধুনিক পার্কিং—বদলে যাচ্ছে বীরভূমের জেলা সদর স্টেশন... সিউড়িতে এবার নবযুগের ছোঁয়া

Last Updated:

বীরভূমের লাল মাটির বুক চিরে যখন রেলের বাঁশি বাজে, তখন তাতে মিশে থাকে এক আশ্চর্য মায়া। সেই মায়ার শহর সিউড়ি। জেলা সদর হলেও সিউড়ির একটা নিজস্ব মন্থর ছন্দ আছে, আছে ইতিহাস আর ঐতিহ্যের এক গভীর শিকড়। সেই চেনা সিউড়ি স্টেশনই এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। সৌজন্যে কেন্দ্র সরকারের ‘অমৃত ভারত’ প্রকল্প।

impactshort
ইমপ্যাক্ট শর্টসলেটেস্ট খবরের জন্য
advertisement
সিউড়ি: স্টেশনের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, সাহেবগঞ্জ লুপ লাইনের এই গুরুত্বপূর্ণ শাখাটি ব্রিটিশ আমল থেকেই রেশম আর নীল চাষের এক প্রধান যোগসূত্র ছিল। এককালে এই স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে পা রেখেছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, যাঁর স্মৃতিবিজড়িত শান্তিনিকেতন এখান থেকে খুব একটা দূরে নয়। বিভূতিভূষণ বা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলমে যে বীরভূমের রুক্ষ কিন্তু প্রাণবন্ত রূপ ফুটে উঠেছে, সিউড়ি তারই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু সময়ের ধুলোয় সেই গরিমা কিছুটা ম্লান হয়েছিল। অমৃত ভারত প্রকল্পের হাত ধরে সেই ঐতিহ্যের গায়েই এখন আধুনিকতার প্রলেপ পড়ছে। প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যায়ে সিউড়ি রেলওয়ে স্টেশনের এই ভোলবদল নিশ্চিতভাবেই বীরভূমের মানুষের জন্য একটি বড় খবর। অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অধীনে এই আধুনিকীকরণ সিউড়িকে একটি আধুনিক নাগরিক কেন্দ্রে পরিণত করবে।
অমৃত ভারত প্রকল্পে সিউড়ি স্টেশন
অমৃত ভারত প্রকল্পে সিউড়ি স্টেশন
advertisement

স্টেশনের নতুন নকশাটি দেখলে চোখে আরাম লাগে। চিরাচরিত একঘেয়ে কংক্রিটের জঙ্গল নয়, বরং বীরভূমের নিজস্ব ঘরানার টেরাকোটা স্থাপত্য আর লোকশিল্পের ছোঁয়া থাকছে স্টেশনের প্রবেশদ্বারে। দেওয়ালে ফুটে উঠছে আলপনা আর বীরভূমের বাউল সংস্কৃতির টুকরো ছবি। প্ল্যাটফর্ম শেল্টার এবং মেঝে উন্নত করা হচ্ছে, যাতে রোদ-বৃষ্টির হাত থেকে যাত্রীরা রক্ষা পান এবং চলাফেরায় সুবিধা হয়। উন্নত সাইনেজ (Signage) এবং TIB/CIB (Train/Coach Indication Board) বসানোর ফলে কোন ট্রেন কোথায় এবং কোন কোচ কত নম্বরে আসবে, তা যাত্রীরা সহজেই বুঝতে পারবেন।বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য থাকছে আলাদা সুবিধা এবং ১টি লিফট স্থাপনের ফলে বয়স্ক ও শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা মানুষের স্টেশনে যাতায়াত অনেক সহজ হবে।  পার্কিং এরিয়া এবং সার্কুলেশন এরিয়া উন্নত করার ফলে স্টেশনে ঢোকা এবং বেরোনোর সময় যানজট অনেকটাই কমবে।

advertisement

এই স্টেশনের আধুনিকীকরণ সিউড়ির পর্যটনকে এক লাফে অনেকটা এগিয়ে দেবে। বক্রেশ্বরের তপ্তকুণ্ডে পুণ্যস্নান করতে আসা তীর্থযাত্রী কিংবা তিলপাড়া ব্যারেজের নীল জলরাশি দেখতে আসা পর্যটকদের জন্য সিউড়ি হবে এক আরামদায়ক যাত্রাপথ। এমনকি শান্তিনিকেতন বা তারাপীঠগামী পর্যটকদের জন্য সিউড়ি স্টেশন হয়ে উঠবে এক বিকল্প ও উন্নত ট্রানজিট পয়েন্ট। পর্যটন বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই চাঙ্গা হবে স্থানীয় অর্থনীতি। সিউড়ির বিখ্যাত মোরব্বা থেকে শুরু করে বীরভূমের তাঁত ও হস্তশিল্প—সবই পৌঁছাবে বিশ্ব দরবারে।

advertisement

অমৃত ভারত প্রকল্পের হাত ধরে স্টেশনের এই ভোলবদল যখন সম্পন্ন হবে, তখন   স্টেশনে যাত্রীদের হাঁকডাকের সঙ্গে মিলেমিশে যাবে এক আধুনিক নাগরিক আভিজাত্য। সিউড়ি স্টেশন তখন আর পাঁচটা সাধারণ হল্ট নয়, হয়ে উঠবে লাল মাটির দেশের এক জ্যান্ত ক্যানভাস। অতীতের মনীষীদের স্মৃতি আর আগামীর আধুনিক প্রযুক্তি—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে সিউড়ি এক নতুন ভোরের অপেক্ষায়।

advertisement

আরও পড়ুন: ‘দিল্লি থেকে একজন আমলা ফোন করেছিলেন’, ভোটের আগে বিজেপির বড় ষড়যন্ত্র ফাঁস অভিষেকের! তুললেন মারাত্মক অভিযোগ

সেরা ভিডিও

আরও দেখুন
করোনার সময় শুরু, আজও চলছে! রঘুনাথপুরে 'পথ কুকুরদের দেবদূত' শান্তনু, জানলে গর্বে বুক ভরবে
আরও দেখুন

অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম দেশের রেল পরিকাঠামোয় এক গভীর পরিবর্তন আনছে। প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, উন্নত যাত্রী পরিষেবা এবং আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্যের সাথে পুনর্উন্নত সিউড়ি রেলওয়ে স্টেশন ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি নির্ণায়ক পদক্ষেপের প্রতিনিধিত্ব করে। আধুনিকতা এবং আঞ্চলিক পরিচয়ের এই সুসংগত মিশ্রণ একটি নতুন ভারতের আত্মবিশ্বাস, গতিশীলতা এবং প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে।

advertisement

বাংলা খবর/ খবর/পশ্চিমবঙ্গ/বীরভূম/
Amrit Bharat: লিফট থেকে আধুনিক পার্কিং—বদলে যাচ্ছে বীরভূমের জেলা সদর স্টেশন... সিউড়িতে এবার নবযুগের ছোঁয়া
Open in App
হোম
খবর
ফটো
লোকাল