শঙ্কর রাই, খড়গপুর: নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে যার বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছিল, সেই অভিযুক্তকে শেষ পর্যন্ত পাকড়াও করল বাংলার খড়গপুর জিআরপি। এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে পালাতে গিয়েও শেষ রক্ষা হল না এক ব্যক্তির। পালানোর সময় খড়গপুর জিআরপির হাতে পাকড়াও হলেন ৪০ বছরের আবুল হোসেন। রীতিমতো পিছু ধাওয়া করে মঙ্গলবার রাতে দাঁতনে এই ব্যক্তিকে খড়গপুর জিআরপি এর্নাকুলাম থেকে অসমের ডিব্রুগড় গামী বিবেক এক্সপ্রেস থেকে গ্ৰেফতার করেছে।
advertisement
বুধবার সকালে খবর পেয়ে কেরল পুলিশ এই অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে কেরলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। আর এই কাজে সাহায্য করার জন্য কেরল পুলিশের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়েছে। এই ব্যাপারে কেরল পুলিশের এসআই মুরলীধরণ জানিয়েছেন, অসমের বাসিন্দা এই ব্যক্তি কর্মসূত্রে কেরলের এর্নাকুলাম জেলার কুন্নাথুন্ডু থানা এলাকায় থাকতেন। তিনি যে বাড়িতে থাকতেন তার ঠিক উল্টোদিকে নির্যাতিতা নাবালিকার বাড়ি।
অভিযোগ, নাবালিকাকে নানান ধরনের ভয় দেখিয়ে এই ব্যক্তি নাবালিকাকে লাগাতার ধর্ষণ করেছেন। এমনকী কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছেন। এদিকে লাগাতার ধর্ষণের জেরে নাবালিকা একসময় অসুস্থ হয়ে পড়ে। ভয় কাটিয়ে তখন বাড়িতে সব জানায় সে। তারপরেই পরিবারের পক্ষ থেকে কুন্নাথুন্ডু থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয় গত ১২ জানুয়ারি। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তৎপর হয় অভিযুক্তকে পাকড়াও করার জন্য। অভিযুক্তকে ধরার জন্য ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। কিন্তু ততক্ষণে অভিযুক্ত পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়। তখন কেরল পুলিশের পক্ষ থেকে গোটা দেশজুড়ে হাই অ্যালার্টে জারি করা হয়। তারপরেই বিশেষ সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার খড়গপুর জিআরপির একটি দল ওড়িশার বালেশ্বর থেকে বিবেক এক্সপ্রেসে চেপে অভিযুক্তকে অনুসরণ করতে শুরু করে।
তারপর ট্রেনটি এই রাজ্যের দাঁতন স্টেশনে পৌঁছাতেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পাকরাও করে খড়গপুর জিআরপি থানায় নিয়ে আসা হয়। এরপরেই জিআরপি খড়গপুর কেরল পুলিশের হাতে তাদের তুলে দেয় অভিযুক্তকে।
