তবে ভবিষ্যতে মোবাইল ডেটা ব্যবহার করতে অতিরিক্ত খরচ লাগতে পারে। কারণ ভারত সরকার বর্তমানে মোবাইল ডেটা ব্যবহারের ওপর কর আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে ভাবছে। এই ধারণাটি নাকি একটি টেলিকম খাত পর্যালোচনা বৈঠকে উঠে আসে, যার সভাপতিত্ব করেন নরেন্দ্র মোদি। ওই বৈঠকে দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়া ডিজিটাল অর্থনীতি থেকে নতুন উপায়ে রাজস্ব বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল।
advertisement
Department of Telecommunications-কে এখন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, মোবাইল ডেটা ব্যবহারের ওপর ছোট একটি কর বা লেভি আরোপ করা সম্ভব কি না! এটি কীভাবে কার্যকর হতে পারে, তা নিয়ে গবেষণা করতেও বলা হয়েছে। বর্তমানে সরকার টেলিকম খাত থেকে বেশিরভাগ রাজস্ব পায় স্পেকট্রাম নিলাম এবং টেলিকম অপারেটরদের দেওয়া লাইসেন্স ফি থেকে। তবে ভারতে ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিমাণ গত কয়েক বছরে অসাধারণ গতিতে বেড়েছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, মোবাইল ডেটা ব্যবহারের ওপর খুবই ছোট একটি কর আরোপ করলেও বড় অঙ্কের রাজস্ব পাওয়া যেতে পারে। টেলিকম বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে ভারতে প্রায় ২২৯ বিলিয়ন গিগাবাইট মোবাইল ডেটা ব্যবহার হয়েছে।
আরও পড়ুন- বড় চিন্তায় কেকেআর! একের পর এক ৩ ধাক্কা! শক্তি কমছে নাইটদের? কীভাবে হবে সমাধান!
যদি সরকার প্রতি গিগাবাইট ডেটার জন্য ১ টাকা করে কর আরোপ করে, তাহলে সম্ভাব্য বার্ষিক রাজস্ব প্রায় ২২,৯০০ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এতে বোঝা যায়, ভারত-এ ডিজিটাল ব্যবহার কতটা বিশাল আকার ধারণ করেছে। তথ্য হেসেব বলা যায়, ব্যবহারকারীরা ইতিমধ্যেই মোবাইল রিচার্জ প্ল্যানের ওপর ১৮% জিএসটি দিয়ে থাকেন। তাই নতুন কোনও কর চালু হলে সেটি সম্ভবত বর্তমান চার্জের সঙ্গেই অতিরিক্ত হিসেবে যোগ হবে।
যদি এই ধরনের কর চালু করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে টেলিকম ব্যবহারকারীদের ডেটা প্ল্যানের খরচ বেড়ে যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে— ধরুন কেউ প্রতিদিন ২ জিবি ডেটা-র একটি প্ল্যান ব্যবহার করেন। এতে সাধারণত মাসে প্রায় ৬০ জিবি ডেটা ব্যবহার হয়। যদি সরকার প্রতি জিবি ডেটায় ১ টাকা কর আরোপ করে, তাহলে মাসিক খরচ প্রায় ৬০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।
ব্যক্তিগতভাবে এই অঙ্ক খুব বড় মনে না হলেও, ভারত-এর কোটি কোটি ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে এটি সরকারকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব এনে দিতে পারে। তবে এখনও বিষয়টি আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং এই নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
মজার বিষয় হলো, এই প্রস্তাবটি শুধু রাজস্ব বাড়ানোর জন্য নয়। সরকারি কর্মকর্তারা স্ক্রিন আসক্তি বাড়ার বিষয়েও উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে। Economic Survey 2026-এ ইতিমধ্যেই তরুণদের মধ্যে অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।
তাই নীতিনির্ধারকেরা ভাবছেন, ডেটার দাম বা করের মতো অর্থনৈতিক উপায় ব্যবহার করে অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন টাইম কমানো যায় কি না। বর্তমানে মোবাইল ডেটার ওপর কর আরোপের বিষয়টি শুধু গবেষণা ও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
