গত সেপ্টেম্বর মাসে অনলাইনে আবেদন করেন প্রিয়াঙ্কা। রাজ্য ও দেশজুড়ে হাজার হাজার আবেদনকারীর মধ্যে থেকে রাইজিং স্টার বিভাগে মাত্র ১৬ জন মূল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। তিনটি ক্যাটাগরিতে—রাইজিং স্টার, ওয়েডিং ও ফন্ড্যান্ট টপার—আবেদন করলেও রাইজিং স্টার বিভাগেই বাজিমাত করেন তিনি। ১১ তারিখ কলকাতা থেকে রওনা দিয়ে মালদ্বীপে পৌঁছন, আর ১৮ তারিখ শিলিগুড়িতে ফেরেন বিজয়ীর সম্মান নিয়ে।
advertisement
মাত্র পাঁচ বছর ধরে কেক শিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রিয়াঙ্কা। কলকাতায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বিশিষ্ট প্রশিক্ষক অতিকুর রহমানের-এর কাছে। তাঁর হাত ধরেই কেক তৈরির জগতে প্রথম পদার্পণ। ইতিমধ্যেই একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেয়েছেন তিনি। এডিবল সুগার ফ্লাওয়ার থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক ওয়েডিং কেক—প্রতিটি কাজে ফুটে ওঠে নিখুঁত শিল্পভাবনা। অনেক সময় একটি কেক তৈরি করতে দুই থেকে তিন দিন, কখনও তারও বেশি সময় লেগে যায়।
প্রিয়াঙ্কা জানান, “এই সাফল্যের পিছনে আমার স্যারের অবদান অপরিসীম। তিনি আমাকে শুধু কেক বানান শেখাননি, শিল্পের দৃষ্টিভঙ্গিটাও গড়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি আমার স্বামী সুমন ভদ্রা সবসময় আমাকে মানসিকভাবে সমর্থন দিয়েছে। কঠিন সময়ে সাহস জুগিয়েছে, তাই আজকের এই জায়গায় পৌঁছতে পেরেছি।”
নতুনদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, “এখন কেক মেকিং লাইনে প্রচুর প্রতিযোগিতা। তাই আলাদা কিছু ভাবতে হবে, নিজের আইডিয়া কাজে লাগাতে হবে। শুধু সুন্দর বানালেই হবে না, নতুনত্ব আনতে হবে। ধৈর্য রাখতে হবে, কারণ অনেক সময় একটা কেক বানাতে টানা দুই-তিন দিনও লেগে যায়। কিন্তু নিজের কাজের প্রতি ভালবাসা থাকলে সাফল্য আসবেই।” আগামী দিনে আরও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ইচ্ছেও প্রকাশ করেছেন শিলিগুড়ির এই কেক শিল্পী।