একটা সময় ছিল যখন গ্রাম মানেই ছিল শান্ত পরিবেশ, পাখির ডাক, হাসির কলরব আর খড়ের চালের ঘরের ছায়া। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শহরের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে আজ গ্রামও বদলে যাচ্ছে। কংক্রিটের বাড়ি ও পাকা দেওয়ালের ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে আমাদের সেই ছোট গ্রাম ও গ্রামবাংলার চিরচেনা জীবনধারা।
এই বাস্তব চিত্রই আজ ফুটে উঠেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না এক ব্লকের বাসুদেবপুর গ্রামের সরস্বতী পুজোয়। উদ্যোক্তারা বলছেন, এক সময় যাঁরা ঘরের ছাউনি তৈরি করতেন, মাটির দেয়াল দিতেন কিংবা মাটির দেওয়ালে নকশা এঁকে শিল্পের ছোঁয়া দিতেন, সেই সব মানুষ আজ কর্মহীন। গ্রামে বসবাসকারী ২৭টি পরিবার জীবিকার তাগিদে বাধ্য হচ্ছেন নিজেদের চেনা পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যেতে।
advertisement
এই হারিয়ে যেতে বসা শিল্পী সমাজ ও গ্রামবাংলার সংস্কৃতিকে সম্মান জানাতেই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বাসুদেবপুর পূর্ব পাড়ার সবুজ সংঘ ক্লাব। এবছর সরস্বতী পুজোর থিম হিসেবে তাঁরা তুলে ধরেছেন ‘পল্লীগ্রাম’। পাড়ার সমস্ত পরিবারের মানুষজন একত্রিত হয়ে গড়ে তুলেছেন গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপ।
মণ্ডপে ঢুকলেই চোখে পড়ছে খড়ের চালের ঘর, উঠোন থেকে উঠোনে যাওয়া পথ, উঠানের মাঝে হরিমন্দির, সন্ধ্যাবেলায় জ্বলে ওঠা প্রদীপ, পাখির ডাক, গাছের ছায়া আর অন্ধকারে জোনাকির আলো। সব মিলিয়ে দর্শনার্থীরা যেন এক মুহূর্তের জন্য ফিরে যাচ্ছেন হারিয়ে যাওয়া গ্রামবাংলার জীবনে।
আয়োজকদের বক্তব্য, এই পুজোর মাধ্যমে শুধু দেবী সরস্বতীর আরাধনাই নয়, গ্রাম ও গ্রামবাংলার শিল্পী সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। গোলা ভর্তি ধান ও গ্রামীণ জীবনের নানা অনুষঙ্গের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে হারিয়ে যাওয়া শৈশব ও স্বদেশী জীবনের আবেগ। সবুজ সংঘের এই উদ্যোগ দর্শনার্থীদের মনে নস্টালজিয়ার ছোঁয়া লাগিয়ে দিচ্ছে।
