পূর্ব বর্ধমান: নচিকেতার কালজয়ী গান 'ছেলে আমার মস্ত মানুষ, মস্ত অফিসার… স্বামী-স্ত্রী আর অ্যালশিসিয়ান, জায়গা বড়ই কম, আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম.. যা তুলে ধরেসমাজের এক করুন চিত্রকে। বার্ধক্যের অক্ষমতা আর অসহয়াতাই কি ৩০ বছর আগের তরুন তরুণীকে আজকের তরুন তরুণী ঠেলে দেয় বৃদ্ধাশ্রমে? যে বাবা মা পৃথিবীর সঙ্গে পরিচয় করিয়েছে আজকের ওই তরুন তরুণীকে, সেই বাবা মা কে এক সময় চলে যেতে হয় বৃদ্ধাশ্রমে। তবে বৃদ্ধাশ্রম আর অভিসাপ নয়। বর্তমানে জীবনের শেষ কিছু বছর বৃদ্ধাশ্রমে কাটিয়ে জীবনের অন্যরকম স্বাদ উপভোগ করতে চান অনেকেই। রাজ্যের নানা প্রান্তে রয়েছে বৃদ্ধাশ্রম। যেখানে তারা সমবয়সীদের পান সুখ দুঃখের গল্প করার জন্য। শুধু বৃদ্ধাশ্রম কেন অসংখ্য অনাথ আশ্রম রয়েছে রাজ্যে। যেখানে রাস্তায় অবহেলিত শিশুরা ঠাঁই পায়। দু'বেলা দু'মুঠো অন্ন জোটে শিশুদের মুখে। পড়াশোনার সুযোগও করে দেয় এই অনাথ আশ্রম গুলি।সাধারণত অনাথ আশ্রম বৃদ্ধাশ্রম আমরা দেখেছি আলাদা আলাদা যায়গায়। তবে এবার অনতরা আর থাকবে না অনাথ। তারা পাবে দাদু ঠাকুমার ভালোবাসা। উল্টোদিকে দাদু ঠাকুমারাও পাবেন নাতি নাতনীদের। খুনসুটি করবেন তাঁদের সঙ্গে। এই ভাবনাকে সামনে রেখে এগিয়ে চলেছে পূর্ব বর্ধমানের ফুডিস ক্লাব। গাংপুরের বৈকুন্টপুরে নিজেদের অর্থ ব্যায় করে ভিত্তি স্থাপন করেছেন ফুডিস ক্লাবের সদস্যরা। এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে দর্পণ। দর্পণের দুটি ভাগ রয়েছে একটির নাম নিলাংসু ভবন। অপরটির নাম দেওয়া হয়েছে নিরালা ভবন। একই জায়গায় তৈরি হচ্ছে এই দুই ভবন। যেখানে এক সঙ্গে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের পাশাপাশি থাকবে অনাথ শিশুরাও। সমস্ত পরিষেবাই মিলবে বিনা মুল্যে।