আগুনের পাশে দাঁড়িয়ে রাজা রঘুবংশীর মা বলেন, দীর্ঘ মানসিক টানাপড়েনের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “হোলিকা দহন শুভের জয়ের প্রতীক। সোনম এখন জেলে রয়েছে, তাঁকে তো পুড়ানো যাবে না। তাই তাঁর শাড়ি আর তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিগুলোকেই পুড়িয়ে দিলাম।”
advertisement
হোলিকার আগুনে বউয়ের বিয়ের শাড়ি পোড়াল পরিবার, ‘ছেলেকে পোড়াতে পারিনি’— ইন্দোরে রাজা রঘুবংশীর মামলায় প্রতীকী প্রতিবাদ
মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক বছরের পুরনো বেদনাদায়ক স্মৃতি। গত বছর হোলির সময়েই সোনম নাকি রাজাকে বাড়িতে ডেকে পাঠিয়েছিলেন উৎসবে যোগ দিতে। “এসো, হোলি খেলি…”— এমনই আহ্বান ছিল বলে পরিবারের দাবি। সেই উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন রাজা। তাঁর মা নিজে মোবাইলে রঙ খেলার একটি ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন। আজ সেই ভিডিওই হয়ে উঠেছে একমাত্র স্মৃতি।
অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, “গত বছর আমি আমার ছেলের হোলি খেলার ভিডিও করেছিলাম। এখন সেই ভিডিও দেখেই তাঁকে মনে করি।”
পরিবারের দাবি, রাজা চলে যাওয়ার পর উৎসবের অর্থই হারিয়ে গিয়েছে তাঁদের জীবনে। তাঁর মায়ের কথায়, “রাজা আমাদের ছেড়ে যাওয়ার পর জীবন থেকে রং মুছে গিয়েছে। আর কোনও হোলি নেই, দীপাবলি নেই, কোনও উৎসব নেই।”
২০২৫ সালের মে মাসে রাজা রঘুবংশীর খুনের ঘটনা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ইন্দোরের এই ব্যবসায়ী স্ত্রী সোনমের সঙ্গে মধুচন্দ্রিমায় মেঘালয়ে গিয়েছিলেন। সেখানেই রহস্যজনক পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, খুনটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। পুলিশের অভিযোগ, সোনম তাঁর পরিচিত রাজ কুশওয়াহার সঙ্গে মিলিত হয়ে বিশাল চৌহান, আকাশ রাজপুত এবং আনন্দ কুর্মি নামে তিন জনকে ভাড়া করেন খুনের উদ্দেশ্যে। অভিযোগ, ঘটনাকালীন সময়ে পাঁচ অভিযুক্তই মেঘালয়ে উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানেই রাজাকে আক্রমণ করে হত্যা করা হয়। পুলিশ কল রেকর্ড ও ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করেছে বলে দাবি করেছে। গ্রেফতারের পর পাঁচ জনকেই বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। অভিযুক্ত সকলেই জেলে রয়েছেন।
