মঙ্গলবারই ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য দেশে কার্যকর হয়েছে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন। তেল শোধনাগার এবং বেসরকারি পেট্রোকেমিক্যাল সংস্থাগুলিকে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের উৎপাদন সর্বোচ্চ স্তরে বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছে কেন্দ্রের তরফ থেকে। গ্যাসের সম্ভাব্য ঘাটতি মোকাবিলা করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পেট্রোলিয়াম, পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রাপ্যতা, সরবরাহ এবং ন্যায়সঙ্গত বণ্টন নিয়ন্ত্রণের জন্য ১৯৫৫ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন প্রয়োগ করল ভারত সরকার। হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ রুট দিয়ে পণ্য পরিবহণের উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছিল। সরবরাহ বন্ধ থেকে ভোক্তাদের রক্ষা করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরান, ইজরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতেরও। জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
advertisement
চাহিদা ও সরবরাহের তীব্র বৃদ্ধির ফলে ভারত এলপিজি সিলিন্ডারের অস্থায়ী ঘাটতির মুখোমুখি হচ্ছে। তেল বিপণন সংস্থাগুলি দেশব্যাপী ১৪.২ কেজির দেশীয় এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা এবং ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১৪৪ টাকা বাড়িয়েছে। সংশোধিত দাম ৭ মার্চ, ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত পেট্রোলিয়াম জানিয়েছে ডোমেস্টিক গ্যাসের সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নাগরিকদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে সংস্থা।
গ্যাসের দাম বাড়ার জেরে অনেক রেস্তোরাঁ ইতিমধ্যেই তাদের মেনুতে পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। যেসব খাবার রান্না করতে বেশি গ্যাস লাগে—যেমন ভাজাভুজি বা দীর্ঘ সময় ধরে রান্না করতে হয় এমন পদ—সেগুলো কিছু জায়গায় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও আবার নির্দিষ্ট সময়েই এসব পদ তৈরি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব অনলাইন ফুড ডেলিভারি পরিষেবাতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বেশিরভাগ রেস্তোরাঁর কাছেই সাধারণত দুই থেকে তিন দিনের গ্যাস মজুত থাকে। সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলে অনেক কিচেন সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হতে পারে।
