মন্ত্রকের নোটিসে বলা হয়েছে, গ্রক এআই ব্যবহার করে অশ্লীল, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ এবং অবমাননাকর কনটেন্ট তৈরি ও ছড়ানো হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য নারী ও শিশুরা। এই ধরনের কনটেন্টকে ব্যক্তিগত মর্যাদা, গোপনীয়তা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তার চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে কেন্দ্র। অবিলম্বে ব্যবস্থা না নিলে কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে এক্সকে—এমন সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।
advertisement
নোটিসে এক্সকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, গ্রক-এর প্রযুক্তিগত নকশা ও গভার্ন্যান্স কাঠামো দ্রুত পর্যালোচনা করতে হবে। পাশাপাশি সমস্ত বেআইনি কনটেন্ট সরিয়ে ফেলতে হবে, দোষী ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ জমা দিতে হবে। মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, এই নির্দেশ অমান্য হলে আইটি আইনের অধীনে ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা হারাতে পারে এক্স। পাশাপাশি একাধিক সাইবার আইন, ফৌজদারি আইন ও শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত আইনে পদক্ষেপ করা হতে পারে।
এই নোটিসের পিছনে রয়েছে শিবসেনা দলের রাজ্যসভা সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদীর অভিযোগ। তিনি কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে চিঠি লিখে বিষয়টিতে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানান।
চিঠিতে প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী দাবি করেন, এক্স প্ল্যাটফর্মে একটি ‘নতুন প্রবণতা’ দেখা যাচ্ছে, যেখানে কিছু ব্যক্তি গ্রক এআই-কে ব্যবহার করে নারীদের ছবি বিকৃত করছে। অভিযোগ, ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুলে নারীদের ছবি আপলোড করা হচ্ছে এবং এআই বটকে এমন নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, যাতে ছবিতে পোশাক কমিয়ে নারীদের যৌনতাপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা যায়।
প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী লেখেন, “এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং এআই প্রযুক্তির চরম অপব্যবহার। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, গ্রক এই ধরনের অনুরোধ মেনে নিয়ে এই আচরণকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।” তাঁর মতে, এটি নারীদের গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন এবং অনুমতি ছাড়া ছবি ব্যবহারের শামিল, যা শুধু অনৈতিক নয়, ফৌজদারি অপরাধও বটে।
তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন, এক্স-এর সঙ্গে বিষয়টি কঠোরভাবে উত্থাপন করতে হবে এবং এআই অ্যাপ্লিকেশনগুলিতে শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে। তাঁর বক্তব্য, “সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের আড়ালে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশ্যে নারীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হতে দেওয়া যায় না। এই বিষয়ে ভারত নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না।”
