এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য সড়ক দুর্ঘটনা আক্রান্তরা দুর্ঘটনার তারিখ থেকে সর্বোচ্চ সাত দিন পর্যন্ত সর্বাধিক ১.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদবিহীন চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। দুর্ঘটনাটি যে ধরনের সড়কে ঘটুক না কেন, এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে। অজীবনসংকট পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থিতিশীলকরণ চিকিৎসা দেওয়া হবে। জীবনসংকট পরিস্থিতিতে তা ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে, যা একটি সমন্বিত ডিজিটাল যাচাইকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
advertisement
আর্টস নিয়ে পড়েছেন? কী ভাবে রোজগার করবেন ‘মোটা টাকা’? এই ৮ পেশার যে কোনও একটা বেছে নিন!
‘সাত সমুদ্র পেরিয়ে তোমায় অনুসরণ করেছি’! রাঁচির কনে ও জার্মানির বরের প্রেম কোথায় গড়াল জানেন?
এই প্রকল্পটি ১১২ নম্বরের ইমার্জেন্সি রেসপন্স সাপোর্ট সিস্টেম (ERSS)-এর সঙ্গে সংযুক্ত। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি, ‘গুড সামারিটান’ বা ঘটনাস্থলে উপস্থিত যে কেউ ১১২ নম্বরে ফোন করে নিকটবর্তী নির্ধারিত হাসপাতালের তথ্য এবং অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চাইতে পারবেন। এর ফলে জরুরি পরিষেবা, পুলিশ ও হাসপাতালের মধ্যে সমন্বয় আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
চিকিৎসার খরচ হাসপাতালগুলিকে মোটর ভেহিকল অ্যাক্সিডেন্ট ফান্ড (MVAF) থেকে পরিশোধ করা হবে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহন বিমাকৃত হলে সাধারণ বিমা সংস্থাগুলির অবদানের অর্থ থেকে হাসপাতালগুলিকে টাকা দেওয়া হবে। বিমাহীন যানবাহন বা ‘হিট অ্যান্ড রান’ ঘটনার ক্ষেত্রে সরকারের বাজেট বরাদ্দ থেকে খরচ বহন করা হবে। অনুমোদিত দাবিগুলি রাজ্য স্বাস্থ্য সংস্থা ১০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করবে, যাতে হাসপাতালগুলি আর্থিক নিশ্চয়তা পায় এবং চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত না হয়।
এই প্রকল্প একটি প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত হবে, যেখানে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রকের ইলেকট্রনিক ডিটেইলড অ্যাক্সিডেন্ট রিপোর্ট (eDAR) সিস্টেমকে ন্যাশনাল হেলথ অথরিটির ট্রানজ্যাকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (TMS 2.0)-এর সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে দুর্ঘটনার রিপোর্ট, পুলিশ যাচাই, চিকিৎসা প্রদান, দাবি প্রক্রিয়াকরণ এবং অর্থপ্রদান—সমস্ত কিছু ডিজিটালভাবে ট্র্যাক করা যাবে।
প্রতিটি জেলায় জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির মনোনীত একজন গ্রিভ্যান্স রেড্রেসাল অফিসার থাকবেন। জেলা শাসক বা সমমানের আধিকারিকের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি অভিযোগ নিষ্পত্তি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।
ভারতে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ঘটে, যার মধ্যে বহু মৃত্যুই সময়মতো চিকিৎসা পেলে এড়ানো যেত। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছালে প্রায় অর্ধেক প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব। সেই প্রেক্ষাপটে পিএম রাহাত প্রকল্পটি আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুহার কমানো এবং দেশের জরুরি স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েই চালু করা হয়েছে।
