রাজ্যের মুখ্যসচিবকে পাঠানো চিঠিতে কমিশন সুপ্রিম কোর্টে পঙ্কজ সিং বনাম ভারত সরকারের মামলার উদাহরণ দেখিয়েছে৷ ওই মামলায় ২০১৮ সালের ৩ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, পুলিশের ডিজি-রা অবসর নেওয়ার তিন মাস আগেই তাঁদের উত্তরসূরি বাছার প্রক্রিয়া শুরুর জন্য ইউপিএসসি-কে প্রস্তাব দিতে হবে সব রাজ্যকে৷ যাতে স্বচ্ছ, মেধার ভিত্তিতে এবং যথাসময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়৷
advertisement
ইউপিএসসি-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজি-র পদ খালি হয়৷ তার প্রায় দেড় বছর পর ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ইউপিএসসি-কে নতুন ডিজি নিয়োগের প্যানেল তৈরির প্রস্তাব পাঠায় রাজ্য সরকার৷ ততদিনে অবশ্য রাজ্য পুলিশের অস্থায়ী ডিজি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছেন রাজীব কুমার৷
এই দেরি সত্ত্বেও রাজ্যের প্রস্তাব খতিয়ে দেখতে গত ৩০ অক্টোবর এমপ্যানেলমেন্ট কমিটির বৈঠক ডাকে ইউপিএসসি৷ সেই বৈঠকে রাজ্যের প্রস্তাব নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মত উঠে আসে৷ এই পরিস্থিতিতে দেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন৷
অ্যাটর্নি জেনারেল তাঁর মতামত দিয়ে স্পষ্ট জানান, ডিজি-র পদ পূরণ করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রস্তাব পাঠাতে অস্বাভাবিক দেরি করেছে৷ এই বিলম্বকে ছাড় দিলে তা নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে৷ অতীতেও এই ধরনের কোনও নজির নেই৷ এই দেরি সরকারি বিধিরও পরিপন্থী বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল৷ শুধু তাই নয়, শূন্য পদ পূরণ করার এই প্রক্রিয়ার কথা এত দেরিতে ইউপিএসসি-র কাছে নথিভুক্ত হলে তাতে যোগ্যদের বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয় বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল৷ এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারকেই সুপ্রিম কোর্টের থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নিয়ে আসতে হবে বলেও জানান অ্যাটর্নি জেনারেল৷ আইনি এই মত নেওয়ার পরই রাজ্যকে প্রস্তাব ফেরত পাঠায় ইউপিএসসি৷
ইতিমধ্যেই নিজেকে ডিজি বা রাজ্য পুলিশের প্রধান পদে অন্যতম যোগ্য বলে দাবি করে সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুন্যাল বা ক্যাট-এ মামলা করেছেন আইপিএস অফিসার রাজেশ কুমার৷ তাঁর অভিযোগ, তিনিই অভিজ্ঞতার ভিত্তি ডিজি পদে অন্যতম যোগ্যতম হলেও রাজ্য সরকার তাঁকে উপেক্ষা করেছে৷ মামলাটি গ্রহণ করে ইউপিএসসি-কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশও দিয়েছে ক্যাট৷
আগামী ৩১ জানুয়ারি রাজীব কুমারেরও অবসর গ্রহণের কথা৷ এই পরিস্থিতিতে ডিজি পদ নিয়ে রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে প্রশাসনিক এবং আইনি মহলের৷
