তৃণমূলের তরফে প্রথমেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে। তাদের দাবি, ৬৩ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার পর আরও ৬০ লক্ষ নাম বিচার প্রক্রিয়ার অধীনে রাখা হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে প্রায় ২০০ জন নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই প্রেক্ষিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এই সমগ্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসলে কতজন বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা শনাক্ত করা গিয়েছে।
advertisement
দ্বিতীয় প্রশ্নে তৃণমূল কেন্দ্রকে নিশানা করেছে রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে। দলটির দাবি, বিশ্বগুরু হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও লাগামছাড়া এলপিজি দামের কারণে বহু গরিব পরিবার চরম সমস্যার মুখে পড়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যেও কেন পর্যাপ্ত কৌশলগত মজুদ গড়ে তোলা হয়নি, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।
হাতায় করে পাতে দিচ্ছেন ভাত! শিয়ালদহে কর্মীদের খাবার পরিবেশনে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য
তৃতীয় ইস্যু হিসেবে তৃণমূল তুলেছে বাংলার প্রাপ্য কেন্দ্রীয় তহবিলের প্রসঙ্গ। তাদের দাবি, বাংলার প্রাপ্য ১ লক্ষ ৯৬ হাজার কোটি টাকা ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রেখেছে কেন্দ্র সরকার। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন বাংলায় এমজিএনরেগা প্রকল্প পুনরায় চালু করা হয়নি, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।
চতুর্থ প্রশ্নে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে ধরেছে তৃণমূল। তাদের দাবি, শুধুমাত্র মাতৃভাষায় কথা বলার জন্য অনেক ক্ষেত্রে বাঙালি শ্রমিকদের চিহ্নিত করা, হেনস্থা করা, আটক করা কিংবা বহিষ্কার করার মতো ঘটনা ঘটছে।
পঞ্চম প্রশ্নে তৃণমূল অভিযোগ করেছে, বিজেপি নেতৃত্ব বারবার বাংলার শ্রদ্ধেয় সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বদের অপমান করেছে। এই ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে বাংলার সংস্কৃতিকে অসম্মান করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে শাসকদল।
প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেড সভার আগে এই পাঁচ প্রশ্ন তুলে রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মোদির সফরের প্রাক্কালে এই বিবৃতি কার্যত রাজনৈতিক তরজাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
