দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা এই জুনিয়র ডাক্তার বারাসাত মেডিকেলের নিপা আক্রান্ত নার্সের সংস্পর্শে এসেছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। জ্বরে গা-হাত-পা যন্ত্রণা খিঁচুনি এবং এনসেফালাইটিসের লক্ষণ থাকায় তাকে আজ ভোরে বেলেঘাটা আই ডি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, নিপা ভাইরাসের আতঙ্কে কাঁপছে গোটা রাজ্য, ইতিমধ্যেই নিপা আক্রান্ত সন্দেহে দুই নার্সের চিকিৎসা চলছে। তাঁরা বর্তমানে ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। অন্যদিকে, নিপা আক্রান্ত সন্দেহে আরও এক নার্সকে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে কলকাতার বেলেঘাট। আইডি হাসপাতালে নিয়ে আসা রয়েছে। আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে তাঁকে। কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং-এর ট্রেস চলছে বলে জানা গিয়েছে।
advertisement
সন্দেহ করা হচ্ছে, নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের ঘোঘরাগাছি গ্রাম নিপার উৎস। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা এই গ্রাম থেকেই ছড়িয়েছে এই মারণ ভাইরাস। কল্যাণী এইমস-এর পক্ষ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। সেখানেই এই আশঙ্কার কথা প্রকাশ করা হয়েছে।
সীমান্তের অপর পারে বাংলাদেশের চুয়াডাঙা এবং কিছুটা দূরেই কুষ্টিয়া৷ গত বেশ কিছুদিন ধরেই এই এলাকাগুলোতে নিপার বাড়বাড়ন্ত। ইনফ্রা রেড ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এই এলাকায় বাদুরের খেজুরের রস খাওয়ার ঘটনা।
গত মাসের ১৫ ডিসেম্বর বারাসতের বেসরকারি হাসপাতালের নিপা আক্রান্ত নার্স পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানের যোগ দিতে যান সীমান্ত ঘেঁষা এই ঘোঘরাগাছি গ্রামে গিয়েছিল৷ আশঙ্কা করা হচ্ছে ওখানেই কাঁচা খেজুরের রস পান করেন এই নার্স।
এই সময় ফলখেকো বাদুড়ের প্রিয় খাদ্য খেজুরের রস। এই রস খাওয়ার সময় মল ত্যাগ করে বাদুড়। এই রস থেকেই মানুষের শরীরে সংক্রামিত হয় নিপা ভাইরাস।
রাজ্যে নিপা ভাইরাস আক্রান্তের ঘটনা সম্পর্কে গত সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে জানান রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী৷ বলেন, ”এই ভাইরাস বাদুড় থেকে আসে, আপনারা জানেন। তাই বাদুড় যা খায়, সেই গুলির বিষয়ে সচেতন থাকবেন।” মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, এ বিষয়ে হেল্পলাইন খোলা হয়েছে। নম্বরগুলি হল ০৩৩২৩৩৩০১৮০ এবং ৯৮৭৪৭০৮৮৫৮। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং-এর কাজ শুরু হয়েছে। মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, ওই দুই আক্রান্ত পূর্ব বর্ধমানে গিয়েছিলেন। দুজন নার্সের ধরা পড়েছে এই ভাইরাস।
ঘটনার পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা৷ সবরকমের সাহায্যের আশ্বাস দেন৷ দিল্লি থেকে পাঠানো হয় বিশেষজ্ঞ দল৷
কী এই নিপা ভাইরাস? বাদুড় থেকে তা কী ভাবে ছড়ায় মানুষের মধ্যে? নিপা ভাইরাস বাদুড় থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায় দূষিত খাবারের মাধ্যমে (যেমন কাঁচা খেজুরের রস বা বাদুড়ের মূত্র/লালাযুক্ত ফল), সংক্রামিত প্রাণির (বাদুড়, শূকর ইত্যাদি) সাথে সরাসরি যোগাযোগ বা তাদের তরল পদার্থ (রক্ত, লালারস) থেকে সংক্রমিত হয়৷
একবার কোনও ব্যক্তি সংক্রমিত হলে, ভাইরাসটি তার শারীরিক তরলের (শ্বাসযন্ত্রের ফোঁটা, প্রস্রাব, রক্ত) ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এটি প্রায়শই পরিবারের সদস্য এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের ক্ষেত্রে ঘটে।
বাদুড় তাদের প্রস্রাব, লালা এবং মলের মাধ্যমে ভাইরাস নির্গত করে। সংক্রমিত বাদুড় দ্বারা দূষিত ফল বা কাঁচা খেজুরের রস খেলে মানুষ সংক্রমিত হয়।বাদুড় প্রায়শই আংশিকভাবে খাওয়া ফল ফেলে দেয়, যা অন্যান্য প্রাণী বা মানুষ খেতে পারে, যার ফলে ভাইরাস ছড়ায়।
