ভোটমুখী দুই প্রতিবেশী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ও অসম। দুই রাজ্যেই চা শ্রমিক ও তাদের পরিবারের ভোট ফ্যাক্টর। ২০২১ সালে বাগান শ্রমিকদের মন পেতে, প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রোউৎসাহন যোজনায় পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের মাধ্যমে আসাম ও বাংলার চা বলয়ে ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়। যার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ধাপে ধাপে এই টাকা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, পরিবারের শিক্ষা ও মৌলিক প্রয়োজনীয়তার খাতে খরচ হবে।
advertisement
চা পর্ষদের হিসাব অনুসারে গত ও চলতি অর্থবর্ষে কেন্দ্র অসমে খরচ করেছে প্রায় ৬৮৬ কোটি টাকা। পশ্চিমবঙ্গের বরাদ্দ সেখানে ৩১৩ কোটি টাকা। বিজেপির দাবি কেন্দ্র টাকা দিলেও সেই টাকা খরচ করছে না রাজ্য। সেই টাকা সরাসরি শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে যাক যা নিয়ে সংসদে দাবি জানিয়েছেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা। তৃণমূলের অভিযোগ কেন্দ্র গত পাঁচ বছরে এই খাতে একটা টাকাও পাঠায়নি। এখন ভোটের সুযোগ বুঝে এই সব প্রস্তাব তুলছে। এরই মধ্যে উত্তরবঙ্গের একাধিক চা বাগানের ম্যানেজারদের কাছে টি-বোর্ডের তরফে চিঠি গিয়েছে। সেখানে শ্রমিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ডিটেইলস চাওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই চা বাগান শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি নিয়ে জোরদার তরজা শুরু হয়েছে। সংসদে দাঁড়িয়ে বিজেপি সাংসদ বলছেন রাজ্যে মজুরি কম ভিন রাজ্যের তুলনায়। আর নতুন সরকার এসেই প্রথম মন্ত্রীসভার বৈঠকেই ৩০০ টাকা মজুরি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই অবস্থায় উত্তরের মন পেতেই সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর কৌশল নিচ্ছে বিজেপি। গত লোকসভা ভোটে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং লোকসভা আসনে বিজেপি জয় লাভ করলেও, কিছু স্থানে ব্যবধান, বিশেষ করে চা বলয়ে কমেছে। বিধানসভা ভোটের আগে সেই সব আসনে জোর লড়াইয়ের সম্ভাবনা। রাজনৈতিক মহলের মতে উত্তরের মাটিতে সংগঠনে জোর আছে বিজেপির। তাই তাদের কৌশলের মোকাবিলা করতে ময়দানে নামছে তৃণমূল কংগ্রেসও।
