TRENDING:

পরের বছরই বড় ঝুঁকি বাংলায়! এরোসল দূষণ বৃদ্ধি পাবে ৮%, চিন্তায় বিজ্ঞানীরা

Last Updated:

২০০৫ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রাজ্যের এরোসল পলিউশনের প্রধান উৎস ছিল যানবাহন থেকে তৈরি হওয়া দূষণ, যা মোট দূষণের ৪০ থেকে ৪২ শতাংশ। এরপরেই যানবাহন চলার ফলে তৈরি হওয়া ধুলো। তার পরিমাণ প্রায় ১৮ থেকে ২০ শতাংশ।

impactshort
ইমপ্যাক্ট শর্টসলেটেস্ট খবরের জন্য
advertisement
#কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ২০২৩ সালে এরোসেল দূষণ ৮% বৃদ্ধি পাবে বলে জানাচ্ছে বোস ইনস্টিটিউটের এক গবেষণা পত্র। বায়ু দূষণের দিক দিয়ে নতুন বছর পশ্চিমবঙ্গের জন্য মোটেও সুখকর হবে না বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, ২০২৩ সালে রাজ্যে এরোসল দূষণ ৮% বৃদ্ধি পাবে। যা এরোসল দূষণের মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অর্থাৎ রেড জোনে ঢুকে পড়বে। দেশে এরোসল দূষণের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করবে বিহারের পর।
advertisement

PM2.5 এবং PM10 এর পাশাপাশি সমুদ্রের লবণ, ধুলো, জৈব কার্বন দিয়ে তৈরি হয় এরোসল। যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

Aerosol optical depth(AOD) হল বাতাসে এরোসিল কত পরিমাণে আছে তা জানার পদ্ধতি। কলকাতার বোস ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং গবেষক মনামী দত্তের A deep insight into state-level Aerosol pollution in India শীর্ষক গবেষণাপত্রে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের এরোসল দূষণ নিয়ে ভবিষ্যতে কী হতে চলেছে, তা বলা হয়েছে।

advertisement

আরও পড়ুন: কৃষ্ণনগরে আজ জনসভা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, সভা ঘিরে নজর রাজনৈতিক মহলের

পশ্চিমবঙ্গ ইতিমধ্যেই রেড ক্যাটাগরিতে রয়েছে। যার অর্থ AOD-র মাত্রা ০.৫। যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। গবেষণায় আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, এরোসল পলিউশনের মাত্রা পশ্চিমবঙ্গে ২০২৩-এর মধ্যে ৮% বৃদ্ধি পাবে। যা AOD তে দাঁড়াবে ০.৭৫ শতাংশ। এরোসল অপটিক্যাল ডেপ্থ বা AOD এর মাত্রা যদি শূন্য থেকে একের মধ্যে থাকে তাহলে স্বচ্ছ পরিষ্কার আকাশ দেখা যায়। আর যদি একের বেশি হয় তাহলে আকাশ ঘোলাটে হয়।

advertisement

Division of categories for AOD based on these percentiles, there are 4 different colour zones:

● Green (Safe Zone)- AOD value less than 0.3

● Blue (Less Vulnerable Zone)- AOD value between 0.3–0.4

● Orange (Vulnerable zone)- AOD value between 0.4–0.5

● Red (Highly Vulnerable zone)- AOD value greater than 0.5

advertisement

অধ্যাপক ড. অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "অবস্থানগত কারণের জন্য গাঙ্গেয় সমতল ভূমির দূষণ এসে পৌঁছয় পশ্চিমবঙ্গের ওপর। এর পাশাপাশি স্থানীয় দূষণ মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বায়ু দূষণের মাপকাঠিতে হয়ে উঠেছে দূষিত রাজ্য। পশ্চিমবঙ্গ ইতিমধ্যেই একটি ঝুঁকিপূর্ণ রাজ্য। এরপর দূষণের মাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেলে তা রাজ্যে বসবাসকারী মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ ভাবে ক্ষতিকর হয়ে উঠবে।"

advertisement

পশ্চিমবঙ্গের এরোসল দূষণের প্রধান উৎসগুলো কী? গবেষক মনামী দত্ত জানালেন, ২০০৫ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রাজ্যের এরোসল পলিউশনের প্রধান উৎস ছিল যানবাহন থেকে তৈরি হওয়া দূষণ, যা মোট দূষণের ৪০ থেকে ৪২ শতাংশ। এরপরেই রয়েছে যানবাহন চলার ফলে তৈরি হওয়া ধুলো। তার পরিমাণ প্রায় ১৮ থেকে ২০ শতাংশ। তারপর অবস্থান করছে চিরাচরিত জ্বালানি পদ্ধতি। যা মোট দূষণের ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ। মনামী দত্ত বলেন, "জাতীয় এবং রাজ্য সড়কগুলোর ঠিকমতো পরিচর্যা না হওয়া এবং কাঁচা রাস্তায় গাড়ি ঘোড়া চলার ফলে তৈরি হওয়া ধুলোর প্রধান উৎস।"

আরও পড়ুন: 'বাংলার মানুষ কার কার সঙ্গে লড়বে? গুন্ডা, মাফিয়া, তোলাবাজি, দুর্নীতি তো রয়েইছে, এবার ডেঙ্গির সাথেও'? প্রশ্ন দিলীপের

যদিও ২০১৫ থেকে ২০১৯ এর মধ্যে চিরাচরিত জ্বালানি পদ্ধতি তৈরি হওয়া দূষণের মাত্রা বেড়ে ৩৫ শতাংশ হয়েছে। উল্টো দিকে যানবাহনের দূষণ কমে ১৮% হয়েছে। কারণ হিসেবে মনামী দত্ত বলেন, "যানবাহন থেকে তৈরি হওয়া দূষণ কমার প্রধান কারণ হতে পারে EURO-IV গাড়ি রাস্তায় নামানো এবং পুরনো ইঞ্জিনের গাড়িগুলোকে আপগ্রেড করা। একই সঙ্গে ১৫ বছরের বেশি পুরনো গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।  তবে এর পরিবর্তে বাড়িঘর তৈরি হওয়ার সময় যে ধুলো তৈরি হচ্ছে তা ব্যাপক দূষণ তৈরি করেছে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে প্রধান শহরগুলির রাস্তার পাশের বেআইনিভাবে তৈরি হওয়া খাবারের দোকান বা রেস্তরাঁয় চিরাচরিত জ্বালানি আধিক্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।"

গবেষণাপত্রে পশ্চিমবঙ্গের এরোসল দূষণের পরিমাণ কমানোর জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে।

ড. চট্টোপাধ্যায় বলেন, চিরাচরিত জ্বালানির পদ্ধতি থেকে তৈরি হওয়া দূষণ এরোসেল দূষণের প্রধান কারণ। সম্প্রতি এলপিজি দাম বৃদ্ধির ফলে গরিব মানুষেরা আবার চিরাচরিত কাঠ, কয়লা দিয়ে রান্নার পদ্ধতিতে ফিরে গিয়েছে। রাস্তার ধারে খাবারের দোকানগুলির সংখ্যাও দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সেরা ভিডিও

আরও দেখুন
আর ছুটতে হবে না নবদ্বীপ-কল্যাণী, নদিয়ায় চালু হয়ে গেল ব্লাড ব্যাঙ্ক, জটিল অপারেশন অনায়াসেই হবে সরকারি হাসপাতালে
আরও দেখুন

পাশাপাশি মনামী দত্ত বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে যে হারে নগর উন্নয়ন হচ্ছে তাতে নির্মাণ কাজ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্মাণ কাজের সময় যে ধুলো তৈরি হয় তা ছড়িয়ে পড়া আটকাতে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া এখনই প্রয়োজন।

বাংলা খবর/ খবর/কলকাতা/
পরের বছরই বড় ঝুঁকি বাংলায়! এরোসল দূষণ বৃদ্ধি পাবে ৮%, চিন্তায় বিজ্ঞানীরা
Open in App
হোম
খবর
ফটো
লোকাল