যদি ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকেই সামনে রাখা যায় কবে এই ৪৫টি আসনের ৩২টিতে জিতেছিল তৃণমূল। সিপিএম-কংগ্রেস জোটের জয় হয় ৫ আসনে। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার জয় হয় পাহাড়ের ৩ আসনে। কিন্তু লোকসভায় পদ্মচাষ শুরু হয় মূলত উত্তরবঙ্গে। জলপাইগুড়ি জেলায় মোট ৭ আসনের ছটিতেই জেতে বিজেপি। তৃণমূল ধরে রাখতে পেরেছিল রাজগঞ্জ। এবার কি এই সমীকরণ বদলাবে? মাঠঘুরে প্রতিবেদকরা বলছেন, জলপাইগুড়ি সদর, ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি, রাজগঞ্জে মরিয়া লড়াই দেবে দুই যুযুধান পক্ষই। এখানে বামেরা লড়াইয়ে নেই বললেই চলে। অন্য দিকে পাহাড়ে দুই শিবিরই কার্যত বিজেপির উপর চটে। রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানে বিজেপি কোনও পদক্ষেপ না করায়, কার্যত ক্ষুণ্ন তারা। এই ঘটনাই বিজেপির বিপক্ষে হাওয়া তৈরি করতে পারে।
advertisement
পঞ্চম দফায় ভোট হবে উত্তর চব্বিশ পরগণার এক বিস্তীর্ণ অংশ। এই অঞ্চলে ২০১৬ সালে বিজেপি দাঁত ফোটাতেও পারেনি। এমনকি লোকসভা ভোটের বিজেপি ঝড়েও অক্ষতই থেকেছে এই দুর্গ। ২০১৯ লোকসভা ভোটে বিজেপি এগিয়ে যায় বিধাননগর ও রাজারহাট-গোপালপুর এই দুই আসনে। তৃণমূল মরিয়া ঠিক দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার মতো উত্তর ২৪ পরগণা থেকেই সিন্দুকে শস্য তুলতে।
ভোট রয়েছে নদিয়া জেলাতেও। এই জেলার আটটি কেন্দ্রের পাঁচটিতে ২০১৬ সালে জয় ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল। যদিও আটটি কেন্দ্রেই লোকসভা ভোটে লিড পেয়েছে বিজেপি। তৃণমূল যদি নদিয়া পুনর্দখল করতে পারে তবে রাজ্যের ভোটসমীকরণ আমূল বদলে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
পূর্ব বর্ধমানে বিধানসভা তো বটেই, শেষ লোকসভাতেও বিজেপি দাঁত ফোটাতে পারেনি। আটটি আসনের সাতটিতেই জেতে তৃণমূল। ফলে তৃণমূল চাইবে সর্বস্ব দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে উত্তর চব্বিশ পরগণা ও বর্ধমানে। আর উত্তরবঙ্গে রাজগঞ্জের মতো আসন যদি মেলে তবে তা হবে ডিভিডেন্ট। পাহাড়ে বিজেপি পরিবর্তে যদি গোর্খাজনমুক্তি মোর্চার পক্ষেই হাওয়া থাকে তবেও তৃণমূলের লাভ।
উল্লেখ্য এই দফায় উত্তরে রাজবংশী ভোট ও উত্তর চব্বিশ পরগণায় মতুয়া ভোট বড় ফ্যাক্টর। বিজেপি তাই বারংবার এই দুই গোষ্ঠীকে লক্ষ করে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এই পর্বের আগে। অন্য দিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকেও চেষ্টার ত্রুটি রাখা হয়নি। এদিকে সন্দেশখালি, বসিরহাট হিঙ্গলগঞ্জের মতো জায়গাগুলিতে আমফান ক্ষোভ ব্যালটবক্সে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
