গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কিমের জনের স্বাস্থ্য নিয়ে গুজব ছড়ায় ৷ এত দিন কোথায় ছিলেন, কেন আড়ালে ছিলেন, সে সব প্রশ্ন অবশ্য থেকেই যাচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার উনসনে কিমের ব্যক্তিগত ট্রেনকে বেশ কিছুদিন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় ৷ সেখানে তিনি কী করছিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য কারোর কাছেই নেই ৷ তাঁর দীর্ঘ ‘অজ্ঞাতবাসে’ ঘনীভূত হয় রহস্য।
advertisement
কিমের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়তে এমন কথাও উঠতে শুরু করে, যে কিমের পর তাহলে উত্তর কোরিয়ার শাসক কে ? এই দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন কিমের বোন Kim Yo Jong ৷ উত্তর কোরিয়ার মতো দেশে যেখানে একনায়কতন্ত্র প্রথা এখনও চলে, সেখানের শাসক একজন মহিলা হবেন ৷ তা নিয়েও নানা খবর প্রকাশিত হয় ৷
৩১ বছরের Kim Yo Jong বড় ভাই উনের মতোই কয়েক বছর সুইৎজারল্যান্ডে ইংলিশ ল্যাঙ্গোয়েজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। সেখান থেকে ফিরে এসে তিনি পিয়ংইয়ংয়ে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করেন। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে বাবা কিম জং ইলের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় প্রথম নজরে আসেন কন্যা Kim Yo Jong। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কমিটির সদস্য না হয়েও তাঁকে নেতৃত্বের ভূমিকায় দেখা যায়। এরপর থেকেই দেশটির ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির বিভিন্ন পদে একের পর এক দায়িত্ব পেতে থাকেন তিনি।
২০১৪ সালে উন অসুস্থ হলে দেশ শাসনে ভাইয়ের পাশে দাঁড়ান জং। ওই বছরই তাঁকে দলের প্রচার কাজ ও আন্দোলন বিভাগের উপ পরিচালক করা হয়। এর পাশাপাশি দলের শীর্ষ নীতিনির্ধারণের ফোরাম পলিটব্যুরোর সদস্য করা হয় তাঁকে।
২০১৮ সালে শীতকালীন অলিম্পিক উপলক্ষে সিওলে উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন Kim Yo Jong। ১৯৫০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের পর প্রথম উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধি দল ছিল এটি। আন্তর্জাতিক কোনও সম্মেলনে এটাই ছিল কিমের বোনের প্রথম যোগদান। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কিম জং উনের বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন তিনি।
ভাই উনের মতোই জং দেশ শাসনে কঠোর ও নিষ্ঠুর যে হবেন না, তার প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। বরং ভাইয়ের মতোই তাঁকে হুমকি-ধমকি দিতে দেখা গিয়েছে বেশ অনেক সময়েই। গত মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার সময় তিনি দক্ষিণ কোরিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘ভয় পেয়ে ঘেউ ঘেউ করা কুকুর’।
স্বৈরতন্ত্র শাসন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নাতাশা লিন্ডস্টায়েদত সংবাদপত্র ডেইলি মিররকে জানান, ‘বিশ্বের অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নির্ধারণে ভাইয়ের চেয়েও কঠোর অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনা Kim Yo Jong-র রয়েছে। ...আমার বিশ্বাস তিনি তাঁর ভাইয়ের মতোই কঠোর একজন মানুষ ৷ ’’
‘কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি’-র পক্ষ থেকে জানানো হয়, শনিবার মে দিবসের অনুষ্ঠানে একটি সার কারখানার উদ্বোধন করেন কিম। অনুষ্ঠানে কিমের সঙ্গে ছিলেন তাঁর বোন Kim Yo Jong-ও। সঙ্গে কিছু সরকারি কর্তাব্যক্তি। কারও মুখে মাস্ক ছিল না। ছবিতে সার কারখানার উদ্বোধনে লাল ফিতে কাটতে দেখা গিয়েছে কিমকে।
