জানা গিয়েছে, ইসলামিক রেভলিউশন গার্ড কর্পস (IRGC) এয়ারোস্পেস কমান্ডার জেনারেল মৌসভি এই নির্দেশ দিয়েছেন৷ তিনি জানান, নতুন যুদ্ধকৌশল মূলত উচ্চ-প্রভাবের হামলা এবং “স্যাচুরেশন অ্যাটাক” কৌশলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যার লক্ষ্য আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে একসঙ্গে বহু ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে অকার্যকর করে দেওয়া।
আরও পড়ুন: ভোটার তালিকা থেকে নাম কেন বাদ পড়ল? জানাতে হবে কারণ, SIR-নিয়ে নির্দেশ শীর্ষ আদালতের
advertisement
গোয়েন্দা সূত্রগুলোর মতে, তেহরান এখন বিভিন্ন ধরনের ওয়ারহেড ব্যবহার থেকে সরে এসে এক টনের বেশি ভারী ওয়ারহেডকে নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে৷ ফলে ভবিষ্যৎ হামলা হবে আরও শক্তিশালী৷ আগামীতে হামলাগুলো প্রতীকী বা সীমিত লক্ষ্যবস্তুর বদলে শক্তভাবে সুরক্ষিত সামরিক অবকাঠামো যেমন বিমানঘাঁটি, বাঙ্কার, বন্দর, লজিস্টিক হাব এবং কমান্ড সেন্টার—ধ্বংস করার দিকে ঝুঁকবে৷
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে Khorramshahr-4-কে এই নতুন কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এটি তুলনামূলকভাবে মাঝারি পাল্লার হলেও বড় ওয়ারহেড বহন করতে পারে, ফলে আঞ্চলিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এটি কার্যকর।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সংখ্যা বাড়ানো এবং একসঙ্গে বড় আকারের হামলা চালানো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান “ডিফেন্স স্যাচুরেশন” কৌশল গ্রহণ করছে। এই কৌশলের লক্ষ্য প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর মজুদ দ্রুত শেষ করে দেওয়া। বিশেষ করে আয়রন ডোম (Iron Dome), ডেভিড স্লিং(David’s Sling) এবং অ্যারো মিসাইল সিসটেম( Arrow missile system)-এর মতো উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে একসঙ্গে বহু ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে দুর্বল করার চেষ্টা করা হতে পারে।
এই কৌশলগত পরিবর্তনের ফলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, তেহরান এখন বিচ্ছিন্ন বা সীমিত হামলার বদলে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ-তীব্রতার ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। সব মিলিয়ে, এই পদক্ষেপ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং পশ্চিম এশিয়ায় সম্ভাব্য বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কাও বাড়িয়ে তুলছে।
