ইরানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের আগ্রাসনের ফলে তেলের বাজারে ব্যাপক দরবৃদ্ধি ঘটেছে। এর আগে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর তেলের দাম বেড়েছিল। তবে এবারের জ্বালানি–সংকটের ধারেকাছেও যায়নি তখন। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর উপসাগরীয় দেশগুলো তেল উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
advertisement
রাশিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, চলতি বছরে ট্রাম্প আর পুতিনের মধ্যে প্রথম ফোনে কথা হল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ফোন করেন। তাঁরা ইরান সংঘাত দ্রুত শেষ করার রুশ পরিকল্পনা, ইউক্রেনের সামরিক পরিস্থিতি এবং বিশ্ব তেলের বাজারে ভেনেজুয়েলার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানানো হয়েছে।
সংবাদিক বৈঠক থেকে ট্রাম্প বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আমার খুব ভাল কথা হয়েছে। পুতিন ইরান ইস্যুতে সাহায্য করতে আগ্রহী। আমি বলেছি, আপনি যদি ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শেষ করতে পারেন, তবে সেটি বেশি সহায়ক হবে। ওটাই হবে আসল সাহায্য। পুতিন সতর্ক করে দেন, ইরান যুদ্ধ বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। তাঁর এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুই নেতার মধ্যে ফোনে কথা হয়। পুতিন আশঙ্কার সুরেই বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল তেল উৎপাদন শিগগিরই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
পুতিন বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল রফতানিকারক ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল মজুত থাকা রাশিয়া আবার ইউরোপীয় গ্রাহকদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, যদি তারা দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতায় ফিরতে চায়। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কমানোর কথা ভাবছে। এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত তিনটি সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে দু-এক দিনের মধ্যেই ঘোষণা আসতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ফলে তেলের সরবরাহে যে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, তা সামাল দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে এটি ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার আয় বন্ধ করার মার্কিন প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে।
