পরে দেখা যায়, সে নিজের ঘরে বসে বিভিন্ন ছবির সংলাপ আবৃত্তি করে নিজেকে প্রস্তুত করছে। ঠিক সেই সময়েই তার জীবনে প্রবেশ করে ঋত্বিক দাশগুপ্ত নামে এক রহস্যময় ব্যক্তি, যে নিজেকে কাশ্মীরি শাল ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দেয় এবং অল্পদিনের জন্য তার সহবাসী হয়ে ওঠে। এই অচেনা উপস্থিতি থেকেই শুরু হয় অস্বস্তি ও দ্বন্দ্বের আবহ। পরদিন উপস্থিত হয় তরুণের প্রেমিকা বনি সেন, এবং সম্পর্কের সূক্ষ্ম টানাপোড়েন গল্পকে আরও জটিল করে তোলে।
advertisement
রেডিওতে সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারের খবর, কিছু প্রশ্নের এড়িয়ে যাওয়া উত্তর এবং বাড়িওয়ালার আচমকা অন্তর্ধান—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ রহস্যঘন হয়ে ওঠে। তবে নির্মাতা শেষ পর্যন্ত সমস্ত রহস্য উন্মোচন না করে দর্শকদের জন্য রেখে দিয়েছেন এক গভীর ভাবনার অবকাশ। পরিচালক দীপ মোদক জানিয়েছেন, এই ছবি কেবল রহস্যভিত্তিক কাহিনি নয়, বরং মানুষের মনের অন্তর্লীন অস্থিরতার অনুসন্ধান। তাঁর কথায়, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ফাঁকে যে নীরব চাপ সৃষ্টি হয়, তা কখনও কখনও মানুষকে এমন এক মানসিক অবস্থায় নিয়ে যায় যেখানে বাস্তব ও কল্পনার সীমা বিলীন হয়ে যায়।
কুশল দত্ত চরিত্রে অভিনয় করা ঋত্বব্রত মুখার্জি বলেন, ‘কুশলের চরিত্রটি অত্যন্ত জটিল। তার মনস্তত্ত্ব অনুধাবন করা আমার কাছে ছিল বড় চ্যালেঞ্জ, তবে সেটাই একজন অভিনেতার আসল আনন্দ। আমরা সকলে আন্তরিক প্রচেষ্টায় গল্পটিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছি।’ বনি সেন চরিত্রে অভিনয় করা প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্য বলেন,’সব চরিত্ররা আমার কাছে অত্যন্ত বিশেষ একটি কাজ। গল্প প্রথম শুনেই অনুভব করেছিলাম এটি ভিন্ন স্বাদের হতে চলেছে। দর্শক আগে থেকে বুঝতে পারবেন না কাহিনি কোন দিকে মোড় নেবে। আমার চরিত্রের একটি অদ্ভুত দিক আমাকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করেছে। কাজটি নিয়ে আমি অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত।’
ঋত্বিক দাশগুপ্ত চরিত্রে অভিনয় করা দেবরাজ জানান, ‘এই ছবিতে আমার চরিত্রের সঙ্গে ঋত্বব্রত ও প্রিয়াঙ্কার চরিত্রের নানা সংঘাত কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মনস্তাত্ত্বিক জটিলতার একাধিক স্তর এখানে বিন্যস্ত হয়েছে। সকল দর্শকের কাছে অনুরোধ, ছবিটি দেখবেন।’ সংযত অভিনয়, ঘনীভূত আবহ এবং মানসিক টানাপোড়েনের সূক্ষ্ম উপস্থাপনায় ‘সব চরিত্ররা’ দর্শকদের সামনে এক গভীর প্রশ্ন তুলে ধরতে চলেছে—মানুষের মনের অন্তরে আসলে কতগুলি চরিত্র বাস করে?
