২০০৬ সালে যখন ‘কভি অলবিদা না কহেনা’ সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে আসে, তখন এটি বলিউডের দর্শকদের দুই দলে বিভক্ত করে দেয়। শাহরুখ খান, রানি, অভিষেক বচ্চন, প্রীতি জিন্টার ছবিটি দাম্পত্যের এমন একটি বিষয় তুলে ধরেছিল যা অনেকেরই পর্দায় দেখতে খুবই অস্বস্তি হয়েছিল। প্রায় দুই দশক পরে রানি বলছেন যে ছবিটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়েছিল তার বিষয়বস্তুর কারণে নয়, বরং দেশ এর জন্য প্রস্তুত ছিল না বলে। এএনআই-এর সঙ্গে এক আলাপচারিতায় তিনি বলেন, ‘হয়তো ভারত এর জন্য প্রস্তুত ছিল না। কিন্তু এমন সিনেমার অংশ হতে পারা সবসময়ই ভাল যা তার সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে। কারণ ইতিহাসে যখন মানুষ সিনেমা নিয়ে কথা বলে, অন্তত তারা আমাদের সিনেমাগুলিকে সেই সিনেমা হিসেবে মনে রাখবে যারা আসলেই জাতির সঙ্গে কথা বলেছে, এমন দর্শকদের সঙ্গে কথা বলেছে যারা সত্যের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত ছিল না। এই ধরনের সিনেমার মাধ্যমে অনেক পরিবর্তন আসে।’
advertisement
রানির মতে, গল্পটি বাস্তবতার আয়না তুলে ধরেছিল। দর্শকদের অস্থির করে তুলেছিল। ‘হ্যাঁ, এটা অবিশ্বাস্য হলেও ঘটেছিল এবং এটি মানুষকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল কারণ এটি তাদের জীবনে তাদের নিজস্ব সত্য দেখতে দিয়েছিল। নিজের সত্যি নিয়ে চিন্তা করা সবসময় কঠিন, জানেন? যখন এটি আপনার সামনে সেলুলয়েডে ঘটে, তখন আপনি জানেন এটি আপনাকে কিছুটা ধাক্কা দিল।’
তবে, এই প্রথমবার রানি এই ছবির প্রভাব সম্পর্কে কথা বলছেন না। ২০২২ সালে গোয়ায় একটি চলচ্চিত্র উৎসবেও তিনি স্মরণ করেছিলেন যে কীভাবে ছবিটি মানুষকে কঠিন সত্যের মুখোমুখি হতে বাধ্য করেছিল। ‘আমি মনে করি কভি অলবিদা না কহেনার সঙ্গে যা ঘটেছিল তা হল, ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পরে, প্রচুর বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। প্রচুর লোক প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে চরম অস্বস্তিতে ছবিটি দেখছিল। এবং আমার মনে হয় করণ তার ছবিটি সম্পর্কে এই প্রতিক্রিয়াই পেয়েছিলেন, আমার মনে হয় এটি অনেক লোকের চোখ খুলে দিয়েছে এবং তারা জীবনে খুশি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ রানি আগামী বছরের শুরুর দিকে ‘মর্দানি ৩’ নিয়ে রুপোলি পর্দায় ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।আরও শোনা যাচ্ছে যে তিনি শাহরুখ খানের আসন্ন ‘কিং’ প্রজেক্টেও থাকতে পারেন, যা বহু বছর পরে তাঁদের জুটিকে পর্দায় ফিরিয়ে আনবে।
