সোশ্যাল মিডিয়ায় লাজবন্তী লিখেছেন, ‘রাহুল, আমার ভাইয়ের মতো মানুষটা এভাবে অকালে হঠাৎ করে চলে যাবে— এটা আমি কখনও ভাবতেই পারিনি। এখনও মনে হচ্ছে সবকিছু ভুল, সবকিছু একটা দুঃস্বপ্ন, হয়তো বা সোশ্যাল মিডিয়ার ফেক নিউজ… যেখান থেকে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাবে, আর তুমি আবার ফিরে আসবে আমাদের মাঝেই।’
লাজবন্তীর উপলব্ধি, বাস্তব পরিস্থিতি যে এত নির্মম, সেটা মেনে নেওয়া সত্যিই কঠিন। লাজবন্তী ভেবে দিশা পাচ্ছেন না যে শ্যুটিং নিয়ে ব্যস্ত থেকে জীবনটাকে উপভোগ করা রাহুলের কলকাতায় ফেরা আর হল না। আচমকাই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। লাজবন্তীর কথায়, ‘আজ তুমি নেই। এই হঠাৎ চলে যাওয়া শুধু একজন অভিনেতার বিদায় নয়, আমাদের সবার জীবনের একটা বড় শূন্যতা।’
advertisement
রাহুলের ব্যক্তিত্বের কথাও উঠে এসেছে লাজবন্তীর পোস্টে। রাহুলের সেই সহজ, আন্তরিক ব্যবহার আর প্রাণবন্ত উপস্থিতি মনে পড়ছে তাঁর। কাজের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা আর ভালবাসা বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে সবসময় আলাদা করে মনে রাখা হবে। লাজবন্তীর ধারণা, বিশেষ করে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবির মাধ্যমে রাহুল যে জায়গাটা মানুষের মনে তৈরি করেছিলে, সেটা কখনও মুছে যাওয়ার নয়।
লাজবন্তী লিখছেন, ‘এভাবে অকালে চলে যাওয়া সত্যিই মেনে নেওয়া যায় না। একটা অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে রইল, যা কোনও দিন পূরণ হবে না। তোমার পরিবারের সবার প্রতি রইল গভীর সমবেদনা। যেখানে থেকো, ভাল থেকো রাহুল। শান্তিতে থেকো চিরদিন।’
এখানেই শেষ নয়। পুনশ্চ বলে ফের ফিরে এসেছেন লাজবন্তী। তুলেছেন শ্যুটিং-এর নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন। তাঁর কথায়, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনার পর একটা বিষয় আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে—শুটিংয়ের সময়, বিশেষ করে জল বা ঝুঁকিপূর্ণ লোকেশনে কাজ করার ক্ষেত্রে, শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের আরও অনেক বেশি সচেতন হওয়া জরুরি।’
কুশীলবদের নিরাপত্তায় কিছু প্রস্তাব রেখেছেন লাজবন্তী। তাঁর মতে, শুটিং সেটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত সুরক্ষার বন্দোবস্ত থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন—উদ্ধারকারী টিম, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা, ডাক্তার ও অ্যাম্বুল্যান্সের উপস্থিতি যেন নিশ্চিত করা হয়। কারণ শিল্পীরা শুধু তাঁদের কাজটাই করেন, কিন্তু সেই কাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইন্ডাস্ট্রির দায়িত্ব।
রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যু কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং বাংলা বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির জন্যই বড় ক্ষতি। লাজবন্তীর আবেদন, ভবিষ্যতে যেন আর কোনও প্রতিভাবান শিল্পীকে এভাবে হারাতে না হয়, সেই জন্য এখন থেকেই আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হওয়া জরুরি।
