ছোট্ট রোদ্দুরের মা জানান, গত বুধবার গভীর রাতে (৫ মার্চ) হঠাৎ করেই ছোট্ট রোদ্দুরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে ফুলবাগানের শিশু মঙ্গল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে তাকে বাইপাস সংলগ্ন অ্যাপোলো হাসপাতালের ইমারজেন্সি বিভাগে স্থানান্তরিত করা হয় এবং আইসিইউ-তে ভর্তি করা হয়।
advertisement
শুক্রবার সকালে চিকিৎসকরা রোদ্দুরের ব্রংকোস্কোপি করেন। পরীক্ষায় ধরা পড়ে যে সে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। পাশাপাশি তার বাম ফুসফুসে জল ও পুঁজ জমে গুরুতর সংক্রমণ তৈরি হয়েছে, যার ফলে ফুসফুস স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছিল না।
পরিস্থিতি সামাল দিতে শুক্রবার দুপুরে একটি ছোট অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা বাম ফুসফুসে একটি ছিদ্র করে একটি পাইপ বসান, যার মাধ্যমে বুকে জমে থাকা জল ধীরে ধীরে বের করা হচ্ছে।
এরপর চিকিৎসায় ধীরে ধীরে উন্নতি হওয়ায় গত রবিবার (৯ মার্চ) বিকেলে রোদ্দুরকে আইসিইউ থেকে জেনারেল বেড P11-এ স্থানান্তর করা হয়েছে।আজ সকালে চিকিৎসকদের ভিজিটে জানানো হয়েছে, আপাতত আর কোনও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নাও হতে পারে। বাকি চিকিৎসা ওষুধ এবং ইনজেকশনের মাধ্যমেই সম্পন্ন হতে পারে, যদিও পুরোপুরি সুস্থ হতে কিছুটা সময় লাগবে।
রোদ্দুরের মা মেঘা চ্যাটার্জী জানান, চিকিৎসার খরচ প্রথমে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে চিকিৎসকদের মতে প্রায় ৬ লক্ষ টাকার মধ্যেই চিকিৎসা সম্পন্ন করে তাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, এই কঠিন সময়ে অসংখ্য মানুষের আর্থিক ও মানসিক সহায়তা তাদের পাশে ছিল। সকলের এই সহানুভূতি ও সাহায্যের জন্য তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে আর কোনও আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন নেই বলেও তিনি জানান। এখন পরিবারের একমাত্র প্রার্থনা, সকলের ভালবাসা ও আশীর্বাদে যেন খুব শীঘ্রই ছোট্ট রোদ্দুর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসতে পারে।
