রাহুলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ওপার বাংলার শিল্পীরাও। অভিনেত্রী জয়া আহসান সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন পোস্টে তাঁকে স্মরণ করেছেন। বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীও গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। যিনি পশ্চিমবঙ্গেও একাধিক সিনেমা ও ওয়েব সিরিজে কাজ করে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
চঞ্চল চৌধুরী ফেসবুক স্টোরিতে লেখেন, “তোমার দেওয়া আনন্দ আর রেখে যাওয়া ভালোবাসার মধ্যেই তুমি বেঁচে থাকবে। তোমার অভাব অনুভব করব, রাহুল।”
advertisement
তালসারির সমুদ্রে এই মর্মান্তিক মৃত্যুকে ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। ইউনিটে এত মানুষ থাকা সত্ত্বেও দ্রুত উদ্ধার সম্ভব হল না কেন? শ্বেতা মিশ্রকে বাঁচানো গেলেও রাহুলকে কেন সময়মতো উদ্ধার করা গেল না? পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি? না কি তা উপেক্ষিত হয়েছিল? নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ থাকলে কি এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত? দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা কেন সতর্ক হননি? শুটিং চলাকালীন অভিনেতাদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যেতে বাধা দেওয়া হয়নি কেন? এমনকি অনুমতি ছাড়া শুটিংয়ের অভিযোগও উঠছে—এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকাও নিয়ে। যদিও এই সব প্রশ্নের এখনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।
সোমবার তমলুক হাসপাতালে রাহুলের দেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি সম্ভবত এক ঘণ্টারও বেশি সময় জলের তলায় ছিলেন। তাঁর ফুসফুসে বিপুল পরিমাণ বালি ও নোনা জল ঢুকে যায়, ফলে ফুসফুস ফুলে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, খাদ্যনালিতেও বালি ও নোনা জলের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের মতে, অল্প সময় জলে থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে রাহুলের দেহ থেকে ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
সোমবার বিকেলে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে সম্পন্ন হয়েছে রাহুলের শেষকৃত্য।
