এই পরিবারের নাট্যচর্চার ধারা নতুন নয়। স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিল তাঁদের পরিবার। সেই স্বাধীনতার আগের দিন থেকেই নাটক ছিল পরিবারের এক অঙ্গ। বাবার হাত ধরে নাট্যচর্চায় হাতে খড়ি, তারপর একে একে পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মও যুক্ত হয়েছে মঞ্চের সঙ্গে। বাবা, ছেলে, নাতি—তিন প্রজন্ম জুড়েই নাটক যেন উত্তরাধিকার।
নতুন দল ক্ষমতায় এলে এই প্রতিশ্রুতি পূরণে হিমশিম খাবে! রাজ্যের বাজেটকে কটাক্ষ অশোক লাহিড়ির
advertisement
নতুন দল ক্ষমতায় এলে এই প্রতিশ্রুতি পূরণে হিমশিম খাবে! রাজ্যের বাজেটকে কটাক্ষ অশোক লাহিড়ির
স্কুল জীবন থেকেই নাটকের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন যুগজিৎ নন্দ। পড়াশোনার পাশাপাশি চলত অভিনয়, সংলাপ রপ্ত করা, চরিত্র বোঝা। কখনও অভিনেতা, কখনও নির্দেশক—সব ভূমিকাতেই ছিলেন সমান দক্ষ। অসহায় বাবার চরিত্র হোক বা রাজা, সামাজিক নাটক থেকে পৌরাণিক কিংবা যাত্রা—সবেতেই সাবলীল তাঁর অভিনয়। কখনও পাঞ্জাবি সেজে, কখনও যাত্রার পোশাকে—প্রতিটি চরিত্রে তিনি বিশ্বাসযোগ্য।
শুধু অভিনয় নয়, নাটক লেখাতেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। বাংলা ও হিন্দি—দুই ভাষাতেই লিখেছেন একাধিক নাটক। বর্তমানে বয়সের কারণে আর নিজে লিখতে পারেন না। পরিবারের সদস্যদের কাছে বসে সংলাপ বলে যান, আর তাঁরা লিখে নেন। তবুও তাঁর কণ্ঠের দৃঢ়তা, ভঙ্গিমা, সংলাপ বলার ছন্দ আজও অটুট।
এখন শরীরের শক্তি আগের মত নেই, কিন্তু নাটক থেকে দূরে থাকার কথা ভাবতেও পারেন না তিনি। সময় পেলেই অভিনয়ে মেতে ওঠেন। এখনও দর্শককে কাঁদাতে পারেন, আবার মুহূর্তেই হাসিতে ভরিয়ে দিতে পারেন মঞ্চ।
যুগজিৎ নন্দ শুধুই একজন নাট্যশিল্পী নন, তিনি এক চলমান সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার। নাটক ও থিয়েটারের ধারাকে আজও বহমান রেখে চলেছেন তিনি। তাঁর এই শৈল্পিক নিষ্ঠা ও সংস্কৃতির প্রতি অগাধ ভালবাসা নিঃসন্দেহে সকলের কাছে অনুপ্রেরণা।