বুধবার গভীর রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় অভিষেকের (Abhishek Chatterjee)। তার পর থেকে বাংলার অভিনয় জগতের সকলেরই মন খারাপ। তাঁর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার ভালোলাগার কথা নিজেদের স্মৃতি রোমন্থনে তুলে আনছেন নন্দকুমার যাত্রা পাড়ার শিল্পী থেকে কর্মী, সকলেই।
অভিনয়ের পাশাপাশি ভালো মানুষ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। অভিষেকের (Abhishek Chatterjee) অনেক পুরনো কথা আজ তুলে ধরেছেন সহকর্মী ও অনুরাগীরা। সকলেরই এক কথা, "ভালো অভিনেতার মনটাও ছিল উদার। দুঃস্থ যাত্রা শিল্পীদের পাশে দাঁড়িয়ে অনেক সাহায্যই করেছেন তিনি। আর তাঁর অকাল মৃত্যু সকলকেই কাঁদিয়ে দিয়ে গেল।"
advertisement
নন্দকুমারের বাসিন্দা অক্ষয় দুয়ারি জানান, তাঁর ছেলের পড়াশোনার যাবতীয় খরচের ভার নিয়েছিলেন অভিষেক। যাত্রাশিল্পী মুকুন্দ সামন্ত বলছেন, "নন্দকুমারে একটা সময়ে যাত্রার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। এখানে যাত্রা একটি বিশেষ সংস্কৃতি। সেই সংস্কৃতি আবার নতুন করে প্রাণ পেয়েছিল অভিষেক চট্টোপাধ্যায়দের হাত ধরেই।"
আরও পড়ুন- 'প্রতিক্রিয়া দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই', অভিষেকের মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন প্রসেনজিৎ
প্রসঙ্গত, গতকাল একটি চ্যানেলে সাক্ষাৎকারের পরে বাড়ি ফিরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন ৷ বার বার বমি হচ্ছিল। বাড়িতেই স্যালাইনের ব্যবস্থা করা হয় ৷ হাসপাতালে যেতে চাননি তিনি। কাল রাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, সুরের আকাশে, লাঠি, সবার উপরে মা, তুফান, ইন্দ্রজিৎ, সখী তুমি কার, দান প্রতিদান, ভাই আমার ভাই, মায়ার বাঁধন, আপন হল পর-সহ একাধিক ছবিতে তিনি নায়কের ভূমিকায় দশকের পর দশক ধরে অভিনয় করে মানুষের মন জয় করেছেন ৷ টালিগঞ্জের প্রিয় অভিনেতা সবার কাছে মিঠুদা নামেই পরিচিত ছিলেন ৷ শ্যুটিং ফ্লোরে তিনি সবার প্রিয় মিঠুদা ছিলেন ৷ সবার সঙ্গে অত্যন্ত ভাল ব্যবহারই ছিল তাঁর চরিত্রের অন্যতম ভাল দিক ৷
সুজিত ভৌমিক
