মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ব্ল্যাক ম্যাজিক করে গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে৷ মহারাষ্ট্র, বিহার, হরিয়ানায় একই জিনিস হয়েছিল৷ সেখানে কেউ ধরতে পারেনি৷ পরে চূড়ান্ত তালিকা বেরনোর পর আর কিছু করা যায়নি৷ কারণ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেই নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন ঘোষণা করে দিয়েছে৷ এখানেও একই প্ল্যান আছে৷’
এ দিন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এসআইআর-এর নামে সর্বনাশের খেলা চলছে বাংলা জুড়ে৷ আগেই এআই ব্যবহার করে ৫৪ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এআই ব্যবহার করে৷ বিবাহিত মহিলাদের পদবী বদল হওয়ায় তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে৷ মিসম্যাচ হয়েছে নির্বাচন কমিশনের ভুলে৷ বলছে ইআরও নাকি ৫৪ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে৷ কিন্তু ইআরও-দের সংগঠন চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে তারা এ বিষয়ে কিছু জানে না৷’ মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, যে ৫৪ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে, তাদের মধ্যে অধিকাংশ নামই বৈধ ভোটারদের৷
advertisement
এ দিন বাঁকুড়ার খাতড়া থানা এলাকায় একটি গাড়ি থেকে একসঙ্গে প্রচুর এসআইআর-এর ফর্ম ৭ উদ্ধার হয়েছে৷ এই ঘটনায় দু জনকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ৷ সেই ঘটনার উদাহরণ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এ দিন অভিযোগ করেছেন, ‘গাড়িতে করে গুচ্ছ গুচ্ছ এনুমারেশন ফর্ম নিয়ে গিয়ে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে৷ এ দিন বাঁকুড়ার খাতড়া থানা এলাকায় একটা গাড়ির ভিতরে ৯-১০ হাজার ফর্ম নিয়ে গিয়েছে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য৷ সব বিজেপি-র এজেন্সি করছে৷ মালদহে তো বিজেপির নেতারা নিজেরা গিয়েছিলেন৷ বস্তা ভর্তি ভর্তি ফাইল৷ এটা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার চুরি নয়? তথ্য চুরি করছে, অধিকার চুরি করছে৷ মানুষকে বাঁচতে দিচ্ছে না৷ জীবিত মানুষকে মৃত দেখিয়ে দিচ্ছে৷’
এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে থানার আইসি-দেরও সতর্ক করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, এ ভাবে এসআইআর-এর গুচ্ছ গুচ্ছ ফর্ম অথবা নথি পাচারের চেষ্টার সময় ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে এফআইআর দায়ের করতে হবে৷ সাধারণ মানুষ এবং তৃণমূলকর্মীদেরও সতর্ক থাকার আর্জি জানিয়েছেন মমতা৷
