পর্যাপ্ত বৃষ্টি আর দীর্ঘমেয়াদী শীতের কারণে এবার মুকুল রক্ষা করতে বাড়তি ওষুধের প্রয়োজন হচ্ছে না, যা আমকে দিচ্ছে রাসায়নিক মুক্ত হওয়ার বাড়তি গ্যারান্টি। কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে, গত বছরের পর্যাপ্ত বর্ষা মাটির গভীরে আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করেছে। এর পাশাপাশি এ বছর শীতকাল দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় আম গাছের ‘চিলিং পিরিয়ড’ বা মুকুল আসার জন্য প্রয়োজনীয় ঠান্ডা আবহাওয়া পর্যাপ্ত মিলেছে। ফলে অফ-সিজন হওয়া সত্ত্বেও গাছগুলিতে প্রচুর পরিমাণে মুকুল এসেছে এবং গুটি ভাল দাঁড়িয়েছে।
advertisement
আম গাছে জল দিচ্ছেন চাষিরা
অন্যান্য বছর মুকুল আসার সময় পোকার উপদ্রব বা ঝরে যাওয়া রোধে চাষিদের দফায় দফায় দামি কীটনাশক ও হরমোন প্রয়োগ করতে হতো। কিন্তু এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকায় সেই খরচ এখনও পর্যন্ত অনেকটাই কম। তবে বেশি মুকুল হওয়ার কারণে অবশ্য খাটনি বেড়েছে অনেকটাই। ফলন অস্বাভাবিক ভাল হওয়ায় চাষিদের নাওয়া-খাওয়ার সময় নেই। গাছের পরিচর্যা, জলসেচ আর আগাম প্রস্তুতিতে ব্যস্ততা বেড়েছে বহুগুণ।
আম চাষি রফিকুল হক জানান, “ভেবেছিলাম এবার গাছ ফাঁকা থাকবে, কিন্তু মুকুল আসার পর দেখছি অন্য বছরের চেয়েও বেশি ফলন। ওষুধ ছাড়াই এবার মুকুল টিকে গিয়েছে। খরচ কম হলেও প্রচুর মুকুলের চাপে এখন দিনরাত খাটতে হচ্ছে।” অফ-সিজিনে আমের উৎপাদন কম থাকায় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকে দাম। তবে এ বছরের পরিস্থিতি ভিন্ন। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার কারণে বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবার মরশুমের শুরু থেকেই ‘জলের দরে’ মিলবে হিমসাগর, ল্যাংড়া থেকে শুরু করে আম্রপালি।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
মধ্যবিত্তের পাতে এবার সস্তায় বিষমুক্ত আম ওঠার সম্ভাবনা প্রবল। সব মিলিয়ে এবার আমের বাজারে এক নতুন দিগন্ত খুলে যাচ্ছে। কম দামে ভাল আম পাওয়ার অপেক্ষায় সাধারণ ক্রেতারা।





