বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান, অপরিশোধিত তেলের দামের উর্ধ্বগতি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের (FII) টানা বিক্রির চাপ—এই তিনটি বড় কারণেই টাকার উপর চাপ বেড়েছে। ফলে ডলারের চাহিদা বাড়তেই রুপির মান আরও দুর্বল হয়েছে।
এসি চললেও কমবে বিদ্যুতের বিল! এই সহজ টিপস মানলেই মাসে বড় সাশ্রয়, ছোট্ট ‘ট্রিক’ জেনে নিন
advertisement
সপ্তাহের শুরু থেকেই রুপির উপর চাপ স্পষ্ট ছিল। ১৭ মার্চ ডলারের বিপরীতে ১২ পয়সা পড়ে ৯২.৪০ টাকায় নেমে আসে রুপি। তার পর ১৮ মার্চ আরও ২৩ পয়সা পড়ে তা দাঁড়ায় ৯২.৬৩ টাকায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এই পতনের অন্যতম কারণ। এদিন ইন্টারব্যাঙ্ক ফরেক্স মার্কেটে টাকা দুর্বল অবস্থানেই লেনদেন শুরু করে এবং ধীরে ধীরে আরও নিচে নামে। আমদানিকারকদের ডলার কেনার চাপ বাড়ায় টাকার পতন আরও ত্বরান্বিত হয়। বিশেষ করে তেল আমদানিকারক সংস্থাগুলির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, টাকার এই পতনের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে আমদানিকৃত পণ্যের দামে। বিশেষ করে জ্বালানি, ইলেকট্রনিক্স ও অন্যান্য আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বাড়তে পারে। ফলে সাধারণ মানুষের উপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) প্রয়োজনে বাজারে হস্তক্ষেপ করতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। তবুও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে টাকার উপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
বাজার বিশ্লেষকদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক সুদের হার সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের (FII) টানা বিনিয়োগ প্রত্যাহার রুপির উপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। ফলে ডলারের চাহিদা বাড়তেই দেশীয় মুদ্রার মান ক্রমাগত দুর্বল হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই রুপি চাপে রয়েছে এবং ইতিমধ্যেই ৯০ টাকার গণ্ডি অতিক্রম করেছিল। সর্বশেষ এই পতন সেই প্রবণতাকেই আরও জোরালো করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের পকেটেও।
