অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেন, বাজারের মূল্যায়ন নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে, তবে ডেরিভেটিভ ট্রেডিংয়ে খুচরো বিনিয়োগকারীদের বিপুল ক্ষতির পরিমাণ নিয়েই সরকারের মূল উদ্বেগ। তিনি বলেন, “জল্পনামূলক প্রবণতা… এমনকি অর্থ মন্ত্রক বহু অভিভাবক ও প্রবীণদের কাছ থেকে ফোন পায়, যারা জিজ্ঞেস করেন— ‘মানুষ টাকা হারাচ্ছে, সরকার কি চুপ করে বসে থাকবে?’” তিনি বিভিন্ন সমীক্ষার উল্লেখ করে জানান, “ফিউচার ও অপশনে যারা নেমেছেন, তাঁদের প্রায় ৯০ শতাংশই ক্ষতির মুখে পড়েছেন।” তাঁর কথায়, যেখানে জল্পনা ব্যাপক, সেখানে নিরুৎসাহক হিসেবে STT বৃদ্ধি কাজ করবে, আর মার্জিন, চুক্তির কাঠামো-সহ অন্যান্য সুরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ঝুঁকি মোকাবিলায় সেবি (SEBI) কাজ চালিয়ে যাবে।
advertisement
জল্পনা দমনে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া যেত— এমন প্রস্তাবের জবাবে নির্মলা সীতারমণ বলেন, সরকারের পদক্ষেপ ছিল সুপরিকল্পিত এবং পরিসরে সীমিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যেখানে জল্পনা ব্যাপক, সেখানেই আমরা শুধু একটি নিরুৎসাহক ব্যবস্থা এনেছি। আমরা বাজারে হস্তক্ষেপ করছি না। অন্য কোনও STT-তে হাত দেওয়া হয়নি।” তিনি স্পষ্ট করেন, প্রকৃত বিনিয়োগ কার্যকলাপে ব্যাঘাত ঘটানো সরকারের উদ্দেশ্য নয়; বরং ঝুঁকিপূর্ণ ট্রেডিংয়ের অস্বাস্থ্যকর বৃদ্ধি মোকাবিলাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য।
মূলধন লাভ কর (ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স) নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী এই দাবি খারিজ করেন যে বছরের পর বছর ধরে চুপিসারে করহার বাড়ানো হয়েছে। তাঁর মতে, এই পরিবর্তনগুলি আসলে কর কাঠামোর যুক্তিসংগত পুনর্বিন্যাসের অংশ। তিনি বলেন, “হার বেড়েছে, বা যুক্তিসংগত করা হয়েছে— যাতে সব ধরনের সম্পদ শ্রেণীকে সমানভাবে বিবেচনা করা যায়।” পাশাপাশি তিনি যোগ করেন, যেসব করদাতা নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত মনে করেন, তাঁদের জন্য সরকার নমনীয়তার ব্যবস্থাও রেখেছে। নির্মলা সীতারমণের কথায়, করের ভারে স্থিতিশীলতাই নীতিনির্ধারণের মূল দিশা, এবং বর্তমান কাঠামো ন্যায্যতা ও পূর্বানুমেয়তার মধ্যে একটি স্বস্তিদায়ক ভারসাম্য বজায় রেখেছে।
