রেকর্ড সরবরাহ, দ্রুত ডেলিভারি:
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে ১৮ কোটিরও বেশি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৬০ লক্ষেরও বেশি সিলিন্ডার গ্রাহকদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে সিলিন্ডার বুক করার পর গড়ে ৩ দিনের মধ্যেই ডেলিভারি মিলছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রক।
আমদানি নির্ভরতা ও সরকারি তৎপরতা:
advertisement
ভারত তার মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভর করে। বিশেষ করে ‘স্ট্রেট অফ হরমুজ’-এর মতো সংবেদনশীল রুট দিয়ে এই জ্বালানি ভারতে আসে। বিশ্বরাজনীতির অস্থিরতায় এই সরবরাহ লাইন ঝুঁকির মুখে পড়লেও ভারত সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।
সোর্সিং বৈচিত্র্য: শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু দেশের ওপর নির্ভর না করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এলপিজি আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি: দেশের ভেতরে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে যাতে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানো যায়।
স্থানীয় সমস্যার দ্রুত সমাধান:
মন্ত্রক স্বীকার করেছে যে কিছু কিছু এলাকায় ডেলিভারি পেতে গ্রাহকদের সামান্য দেরি হয়েছে। তবে এটি কোনও ব্যাপক সমস্যা নয়, বরং স্থানীয়ভাবে চাহিদার আকস্মিক বৃদ্ধি এবং ডেলিভারি ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে হয়েছে। এই সমস্যা মেটাতে অয়েল মার্কেটিং কোম্পানিগুলোর (OMCs) সঙ্গে সমন্বয় রেখে মাঠ পর্যায়ে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
উজ্জ্বলা যোজনা ও দামের সুরক্ষা:
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ব্যাপক ওঠা-নামা চললেও সাধারণ গ্রাহকদের ওপর তার প্রভাব পড়তে দেয়নি সরকার। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার (PMUY) উপভোক্তাদের সুরক্ষায় ক্যালিব্রেটেড পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের সাধ্যের মধ্যে রান্নার গ্যাস পৌঁছে দেওয়া যায়।
বিশ্বের বহু দেশ যখন জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত, তখন ভারতের এই বিশাল সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখা দেশের শক্তিশালী অবকাঠামোরই প্রমাণ। কেন্দ্র জানিয়েছে, প্রতিটি পরিবারে নিরাপদ, সাশ্রয়ী এবং নিরবচ্ছিন্ন এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
