এখানকার কৃষকরা মূলত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ঝাল লঙ্কার বীজ বপন করেন। শীতের শুরুতেই চারা গাছ বড় হতে থাকে। চার মাসের মধ্যেই গাছে ফলন আসে। এরপর প্রতিদিন কুইন্টাল কুইন্টাল লঙ্কা তোলা হয়। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বাইরে জেলাতেও লঙ্কা পাঠান হয়। বেলে দোআঁশ মাটি, পর্যাপ্ত রোদ এবং সমুদ্রের হাওয়ায় এখানে লঙ্কার ফলন ভাল হয়। মাটিতে জল দাঁড়িয়ে থাকে না। ফলে গাছের শিকড় পচে যাওয়ার আশঙ্কা কম। এছাড়া আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে উষ্ণ থাকায় গাছ দ্রুত বাড়ে এবং ফলনও বেশি হয়।
advertisement
আরও পড়ুন: এই ব্যাঙ্কগুলি ২০২৬ সালের মার্চ মাসে সবচেয়ে সস্তা Gold Loan অফার করছে, সম্পূর্ণ তালিকা এখানে দেখুন
এই সোনার ফসলের জেরেই বদলে যাচ্ছে এই এলাকার কৃষকদের ভাগ্য। বিঘা প্রতি দেড় থেকে দু’ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লাভ হচ্ছে।
এক একজন কৃষক তিন থেকে চার বিঘা জমিতে লঙ্কা চাষ করছেন। ফলে আয় কয়েক লক্ষ টাকায় পৌঁছে যাচ্ছে। এই এলাকার সামুদ্রিক মাছের শিল্পের পাশাপাশি লঙ্কা তোলা, বাছাই করা এবং বস্তাবন্দি করার কাজ চলে সারাদিন। পাইকাররা সরাসরি মাঠে এসে লঙ্কা কিনে নিয়ে যান। এতে কৃষকদের পরিবহন খরচও অনেকটা কমে যায়।
শুধু পুরুষরাই নন, এই এলাকার বহু মহিলাও সরাসরি এই চাষের সঙ্গে যুক্ত। গাছ থেকে লঙ্কা তোলা থেকে শুরু ও প্যাকেজিং—সব কাজটাই তাঁরা করেন।
আরও পড়ুন: দিল্লিতে থাকতে চাইলে আপনার বেতন কত হওয়া উচিত? পুরো হিসেব জানলে অনেকেই মানসিক চাপে পড়বেন
অনেক পরিবারে মহিলাদের কাছে এই কাজ প্রধান ভরসা। ফলে সংসারের আর্থিক অবস্থাও মজবুত হয়েছে। সমুদ্রের ধারে এই গ্রামগুলো এখন আত্মনির্ভরতার উদাহরণ হয়ে উঠছে। উপকূলের বেলে মাটিই আজ সোনার ফসল ফলাচ্ছে। শুধু সামুদ্রিক মাছ নয়, লঙ্কা চাষ ঘিরে নতুন আশার আলো দেখছেন মন্দারমনির কৃষকরা।
মদন মাইতি





