এশিয়া থেকে আফ্রিকা হয়ে ইউরোপ পর্যন্ত সরকারগুলো সীমিত জ্বালানি মজুদকে দীর্ঘায়িত করার জন্য অতিরিক্ত সরকারি ছুটি, বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ, জ্বালানি রেশনিং এবং শিল্প কারখানা বন্ধের মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এক নজরে দেখে নিন কোন দেশ কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে–
এশিয়া
১. শ্রীলঙ্কা
advertisement
• বুধবার স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং অনাবশ্যক সরকারি কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
• জাতীয় জ্বালানি পাস (কিউআর-ভিত্তিক রেশনিং) পুনরায় চালু করা হয়েছে; ব্যক্তিগত যানবাহনের জন্য সপ্তাহে ১৫ লিটার এবং গণপরিবহণের জন্য ২০০ লিটার জ্বালানি ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২. বাংলাদেশ
• বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিদেশি পাঠ্যক্রমের স্কুল এবং কোচিং সেন্টার বন্ধ করে অনলাইন ক্লাস শুরু করা হয়েছে।
• ৮ মার্চ, ২০২৬ থেকে জ্বালানি রেশনিং চালু করা হয়েছে।
• বাড়িগুলোতে ৫ ঘণ্টার পর্যায়ক্রমিক লোডশেডিং চালু করা হয়েছে এবং পোশাক রফতানি খাতের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
• ভাঙচুর প্রতিরোধ এবং মজুত সুরক্ষিত রাখতে প্রধান তেল ডিপোগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
• গ্যাসের ঘাটতির কারণে দেশ রাষ্ট্র-পরিচালিত ৫টি সার কারখানার মধ্যে ৪টি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।
৩. ভুটান
• মজুতদারি রোধে জ্যারিক্যানে জ্বালানি বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি।
• বাড়ি থেকে কাজ করার কাঠামো সক্রিয় করা হয়েছে।
• জরুরি পরিষেবাগুলোর জন্য জ্বালানি রেশনিং-এ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
৪. পাকিস্তান
• সরকারি কর্মচারীদের জন্য চার দিনের কর্মসপ্তাহ এবং ৫০% বাড়ি থেকে কাজ করার ব্যবস্থা জারি।
• দুই সপ্তাহের জন্য স্কুল ও কলেজ বন্ধ।
• সরকারি বিভাগগুলোতে জ্বালানি বরাদ্দ ৫০% কমানো হয়েছে।
• রাস্তা থেকে অপ্রয়োজনীয় সরকারি যানবাহন প্রত্যাহার করা হয়েছে।
৫. ফিলিপিন্স
• সরকারি কর্মচারীদের জন্য চার দিনের কর্মসপ্তাহ জারি।
• বেসরকারি খাতকে বাড়ি থেকে কাজ করার ব্যবস্থা গ্রহণে উৎসাহিত করা হয়েছে।
• অপ্রয়োজনীয় সরকারি খাতের ভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞা।
৬. ভিয়েতনাম
• ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
• গণপরিবহণ, সাইকেল চালানো এবং কারপুলিংকে উৎসাহিত করা হয়েছে।
৭. মায়ানমার
• রেজিস্ট্রেশন নম্বরের উপর ভিত্তি করে ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার এক দিন পর পর জোড় ও বিজোড় দিনে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
• জ্বালানির ব্যাপক ঘাটতির কারণে স্থানীয় পেট্রোল স্টেশনগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।
৮. কম্বোডিয়া
• জ্বালানির মূল্যের উপর সংঘাতের প্রভাব নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে দেশের ৬,৩০০টি পেট্রোল স্টেশনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বন্ধ হয়ে যায়।
৯. লাওস
• সরকারি কর্মচারীদের জন্য বাড়ি থেকে কাজ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
• দূরবর্তী সভা এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহারকে উৎসাহিত করা হয়েছে।
• জ্বালানি স্টেশনগুলো ব্যাপকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যাতায়াত কমাতে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের উপর চাপ কমাতে পালাক্রমে কাজের শিফট চালু করা হয়েছে।
আফ্রিকা
১. মিশর
• ২৮ মার্চ, ২০২৬ থেকে সপ্তাহের কর্মদিবসে মল, রেস্তোরাঁ এবং খুচরো বিক্রেতাদের রাত ৯টার মধ্যে কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। সরকারি ভবনগুলো সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে।
• বিদ্যুৎ খরচ কমাতে আলোকিত বিলবোর্ডগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
২. কেনিয়া
• জ্বালানি রেশনিং এবং রফতানির উপর কার্যকর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়েছে। জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা সতর্ক করেছে যে, এই বিধিনিষেধ সত্ত্বেও বিদ্যমান মজুত কেবল এপ্রিল পর্যন্তই চলবে।
৩. দক্ষিণ আফ্রিকা
• একাধিক প্রদেশে ডিজেলের সাইনবোর্ডগুলো নিভে যাওয়ায় খনিজ ও পেট্রোলিয়াম সম্পদ বিভাগ ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে এবং আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটা রোধ করতে শিল্প পর্যায়ে নিয়ন্ত্রিত বরাদ্দ ব্যবস্থা বাস্তবায়িত করেছে।
ওশেনিয়া
১. নিউজিল্যান্ড
• সরকার ১৯৭৯ সালের গাড়িবিহীন দিন নীতি পুনরুজ্জীবিত করার কথা বিবেচনা করছে, যার অধীনে চালকরা প্রতি সপ্তাহে একটি দিন গাড়ি না চালানোর জন্য মনোনীত করবেন।
• জ্বালানি মজুত পর্যবেক্ষণের জন্য অ্যাম্বার অ্যালার্ট প্রোটোকল সক্রিয় করা হয়েছে এবং রিজার্ভ থেকে ১.৫৭ মিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানি ছাড়া হয়েছে।
• জেট ফুয়েলের উচ্চমূল্যের কারণে এয়ার নিউজিল্যান্ডের প্রায় ১,১০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে ৪৪,০০০ যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
ইউরোপ
১. স্লোভাকিয়া
• মজুতদারি ও ঘাটতি রোধ করতে স্লোভাকিয়ার সরকার ডিজেল ক্রয়ের উপর আনুষ্ঠানিক কোটা আরোপ করেছে, যার মাধ্যমে প্রত্যেক ক্রেতা কী পরিমাণ ডিজেল কিনতে পারবে তা সীমিত করা হয়েছে।
২. স্লোভেনিয়া
• উচ্চ চাহিদার মধ্যে ঘাটতি রোধ করতে এবং স্থানীয় সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানি খুচরো বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এমওএল স্লোভেনিয়া (MOL Slovenia) তাদের স্টেশনগুলোতে জ্বালানি রেশনিং (গাড়ির জন্য ৩০ লিটার, ট্রাকের জন্য ২০০ লিটার) ব্যবস্থা চালু করেছে।
