শখের বশে মাত্র ১০টি মুরগি দিয়ে শুরু। অল্পদিনের মধ্যেই এলাকায় চাহিদা বাড়তে থাকে। সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখে বাড়ির ছাদে ধীরে ধীরে বড় পরিসরে চাষ শুরু করেন শাহীন। বর্তমানে তাঁর খামারে রয়েছে সিল্কি ফ্যান্সি, সুলতান, টার্কি, গিনি ফাউল, কড়কনাথ, চিনা হাঁস, কোয়েল-সহ একাধিক বিদেশি ও দেশি প্রজাতির মুরগি ও পাখি। শুধু বড় মুরগি পালন নয়, বাড়িতেই তৈরি করেছেন ছোট আকারের একটি হ্যাচারি। কৃত্রিম পদ্ধতিতে ডিম ফুটিয়ে একসঙ্গে বহু ছানা উৎপাদন করা হচ্ছে। বড় হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। ছানা অবস্থাতেই পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। আর পূর্ণবয়স্ক হলে প্রজাতি ভেদে প্রতিটি মুরগির দাম উঠছে ৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত। রিফাত শাহীন জানান, ” প্রথমে বাড়িতে পোষার জন্য ১০টি মুরগি এনেছিলাম। পরে এলাকায় চাহিদা বাড়তে দেখে ছাদেই খামার গড়ে তুলি। এখন কৃত্রিম পদ্ধতিতে ছানা উৎপাদন করে বিক্রি করছি। পড়াশোনার পাশাপাশি ভালই আয় হচ্ছে।”
advertisement
মালদহ মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি উজ্জ্বল সাহা বলেন, “পড়াশোনার পাশাপাশি এমন বিকল্প আয়ের পথ সত্যিই প্রশংসনীয়। বাড়িতে বসেই আধুনিক পদ্ধতিতে মুরগি চাষ বর্তমান যুব সমাজকে নতুন দিশা দেখাচ্ছে। জেলা জুড়ে এ ধরনের উদ্যোগ বৃদ্ধি দরকার। রাজ্য সরকারের পশুপালন দফতরের একাধিক প্রকল্প রয়েছে। চাষিরা চাইলে সেখানে গিয়ে সহযোগিতা ও পরামর্শ নিতে পারেন।”
ছাদের খামার থেকেই এখন প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা আয় করছেন এই কলেজ পড়ুয়া। সীমিত পরিসরেও যে সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ থাকলে বড় সাফল্য সম্ভব, তারই উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছেন রিফাত শাহীন। পড়াশোনার পাশাপাশি এমন দূরদর্শী চিন্তাভাবনা অনেক যুবকের কাছেই অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।





