এই সংক্রান্ত আলোচনায় আসার আগে আরেকটি কথা একটু ব্যাখ্যা না করলেই নয়। বলা তো হচ্ছে পাঁচটি অঙ্গ, কিন্তু এগুলো আসলে কী?
ভারতীয় দিনপঞ্জির এই পাঁচটি অঙ্গ হল তিথি, বার, নক্ষত্র, যোগ এবং করণ। সেই অনুসারে ১৯ অগাস্টের কিছুটা পড়েছে ১৪৩০ বঙ্গাব্দের শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে, বঙ্গাব্দের তারিখ ১ ভাদ্র। এই বঙ্গাব্দ গণনা করা শুরু হয়েছিল পঞ্জিকা নির্ণয়ের প্রথম এবং প্রাচীন পদ্ধতি সূর্যসিদ্ধান্ত অনুসারে, পরবর্তীকালে যাকে সংস্কার করে প্রতিষ্ঠিত হয় দৃকসিদ্ধান্ত বা বিশুদ্ধসিদ্ধান্ত মত। বাংলার জনমানসে বহুল জনপ্রিয়তার কারণে এখানে সূর্যসিদ্ধান্তসম্মত ফলাফল উল্লেখ করা হল। বার হল শনি এবং তৃতীয়া তিথি থাকবে ১৯ অগাস্ট সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত। এর পরে শুরু হয়ে যাবে শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথি।
advertisement
সূর্যসিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে ১৯ অগাস্ট সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১৮ মিনিটে, সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ০১ মিনিটে। অন্য দিকে, চন্দ্রোদয় হবে ১৯ অগাস্ট সকাল ০৭ টা ৫৫ মিনিটে। চন্দ্র অস্ত যাবে ১৯ অগাস্ট সন্ধ্যা ৭ টা ৫৬ মিনিটে।
এই ১৪৩০ বঙ্গাব্দের ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথির নক্ষত্র হল উত্তর ফাল্গুনী। ১৯ অগাস্ট, দুপুর ১২ টা ৪৩ মিনিট পর্যন্ত উত্তর ফাল্গুনী নক্ষত্রের অবস্থান থাকবে। এর পরে চতুর্থী তিথিতে অবস্থান করবে হস্তা নক্ষত্র।
সূর্য অবস্থান করবেন সিংহ রাশিতে। চন্দ্র অবস্থান করবেন সিংহ রাশিতে।
শুভ মুহূর্ত- সূর্যসিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে ১৯ অগাস্ট মাহেন্দ্রযোগ পড়েনি। অমৃতযোগ পড়েছে সকাল ০৯ টা ৩২ মিনিট –দুপুর ১২ টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত, রাত ০৮ টা ১৭ মিনিট –রাত ১২ টা ০২ মিনিট, পরদিন রাত ০১ টা ৩৩ মিনিট – রাত ৩ টে ৪৮ মিনিট পর্যন্ত।
মাহেন্দ্রযোগ এবং অমৃতযোগকে বাংলা পঞ্জিকার অন্যতম পুণ্যলগ্ন বলে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। যে কোনও নতুন কাজ, শুভ কাজ শুরু করার এটি প্রকৃষ্ট সময়।
অশুভ মুহূর্ত- সূর্যসিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে ১৯ অগাস্ট রাহুকাল বা কালবেলা পড়েছে ভোর ০৫ টা ১৮ মিনিট – সকাল ০৬ টা ৫৩ মিনিট এবং বিকেল ৪টে ২৬ মিনিট – সন্ধ্যা ০৬ টা ০১ মিনিট কালীন সময়ে। এই সময়ে নতুন কোনও কাজ শুরু করাটা ঠিক হবে না। বারবেলা পড়েছে দুপুর ০১ টা ১৫ মিনিট – দুপুর ০২ টা ৫০ মিনিট সময়কালে। কালরাতি থাকছে সন্ধে ০৬ টা ০১ মিনিট – সন্ধে ০৭ টা ২৬ মিনিট সময়কালে এবং রাত ০৩টে ৫৪ মিনিট – পরদিন ভোর ০৫ টা ১৮ মিনিট সময়কালে।
