জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, মঙ্গল, সূর্য এবং রাহুকে শরীরের তাপ, রক্ত এবং শক্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যখন এই গ্রহগুলির প্রভাব একটি রাশির উপর বৃদ্ধি পায়, তখন একজন ব্যক্তি জ্বর, জ্বালা বা ক্লান্তির মতো সমস্যায় ভুগতে পারেন। এই দর্শনের উপর ভিত্তি করে কিছু সহজ প্রতিকারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা মানুষ বিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। এই প্রতিকারগুলি ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি এবং মানসিক প্রশান্তি প্রদান করে।
advertisement
জ্যোতিষশাস্ত্রে মঙ্গল গ্রহকে শরীরের তাপ এবং রক্তের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। যখন মঙ্গল দুর্বল বা খুব বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন, তখন শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। একইভাবে, সূর্যকে জীবনীশক্তি এবং তাপের একটি কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যখন সূর্যের গতিবিধি ব্যাহত হয়, তখন একজন ব্যক্তি উচ্চ জ্বর, মাথাব্যথা বা দুর্বলতা অনুভব করতে পারেন। রাহু হঠাৎ সমস্যা এবং রহস্যময় প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত। রাহুর প্রভাবে কোনও কারণ ছাড়াই জ্বর হতে পারে বা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। ভোপাল-ভিত্তিক জ্যোতিষী, বাস্তু বিশেষজ্ঞ এবং সংখ্যাতত্ত্ববিদ হিমাচল সিং এই বিষয়ে আরও তথ্য প্রদান করেছেন।
এই গ্রহগুলির প্রভাব শান্ত করার জন্য একটি সহজ ধর্মীয় প্রতিকারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিকারে তিনটি উপাদান ব্যবহার করা হয়: মঙ্গলের জন্য গুড়, সূর্যের জন্য গম এবং রাহুর জন্য বাজরা। এই প্রতিটি উপাদান এক কেজি করে নেওয়া হবে। নিশ্চিত করতে হবে যে শস্য পরিষ্কার এবং অক্ষত থাকবে।
এই প্রতিকার পালনের সর্বোত্তম সময় হল সন্ধ্যা চারটা থেকে পাঁচটার মধ্যে। এই উপাদানগুলি টানা তিন দিন ঠাকুরঘরে রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে যে কষ্ট দূর করার জন্য এটি করা হচ্ছে। তাই কারও সঙ্গে কথা না বলে শান্তভাবে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা ভাল।
বিশ্বাস করা হয় যে এই প্রতিকার নেতিবাচক গ্রহের শক্তি হ্রাস করে এবং জ্বর থেকে মুক্তি দেয়। অনেকেই জানান যে এটি করলে তাঁদের মানসিক শান্তি এবং প্রশান্তি লাভ হয়। এই প্রতিকারকে কোনও চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। যদি জ্বর তীব্র হয় বা দীর্ঘ সময় ধরে থাকে, তাহলে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রতিকারটি শুধুমাত্র বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি, যা মনোবল বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
