Published by Rukmini Mazumder 15-02-2026
মাথা থেকে গোছাগোছা চুল উঠছে? উঁকি মারছে টাক?টাক ক্রমশই বেড়ে চলেছে? মাথায় রাখবেন, টাক পড়া কিন্তু শুধুমাত্র বংশগত কারণ, চুলের অযত্নর কারণে হয় না।
মাথায় টাক পড়া কিন্তু কয়েকটি রোগের ইঙ্গিত বহন করে। টাক পড়ার নেপথ্যে রয়েছে কোন কোন অসুখ?
থাইরয়েড– থাইরয়েড হরমোনের ওঠানামায় চুল পড়ে। থাইরয়েড হরমোন আয়রন, ক্যালশিয়ামের মতো খনিজ শোষণ করে। এই খনিজগুলি চুলের বৃদ্ধির জন্য উপকারী। হাইপোথাইরয়েডিজম এবং হাইপারথাইরয়েডিজম, দুই উভয় রোগের ক্ষেত্রেই চুল পড়ে।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, হাইপারথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত প্রায় ৫০% মানুষের ক্ষেত্রে এবং হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত প্রায় ৩৩% মানুষের ক্ষেত্রে অ্যালোপেসিয়া একটি উপসর্গ হিসেবে দেখা যায়। এক্ষেত্রে মাথার ত্বক জুড়ে সমানভাবে চুল পাতলা হয়ে যায়।
আয়রনের ঘাটতি– ভারতিয় মহিলাদের মাথায় চুল পড়ার অন্যতম কারণ হল আয়রনের ঘাটতি। ফেরিটিন নামে এক ধরনের প্রোটিন আছে যা আয়রন সঞ্চয় করে রাখে। এই প্রোটিনের তারতম্য হলে আয়রনের ঘাটতি হতে থাকে। চল্লিশের পরে ছেলেদের টাক পড়ার একটি কারণই হল শরীরে আয়রনের ঘাটতি।
। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কম ফেরিটিনের মাত্রা বেশি তীব্র টেলোজেন এফ্লুভিয়ামের সঙ্গে সম্পর্কিত, বিশেষ করে ঋতুমতী মহিলা এবং যাঁরা ডায়েটে রয়েছেন,তাঁদের ক্ষেত্রে।
অটোইমিউন রোগ–অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা একটি অটো-ইমিউন রোগ যেখানে মাথাজুড়ে ছোট ছোট আকারে চুল পড়তে থাকে। যাঁদের পরিবারে থাইরয়েডের সমস্যা, শ্বেতি, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, লুপাস অথবা আলসারেটিভ কোলাইটিস আছে তাঁদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যেতে পারে।
হরমোনের গোলমাল–পুরুষদের অ্যান্ড্রোজেন হরমোন ক্ষরণের তারতম্যে চুল উঠতে থাকে। এই হরমোনটির তারতম্য হলে চুলের গোড়া দুর্বল হতে থাকে। একে বলে ‘অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়া’।
হদরোগ– ‘জার্নাল অফ মেডিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড হেলথ’-এ প্রকাশিত তথ্য অনুসারে অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়া হার্টের রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ত্রিশ বছর বয়সের পরেই যাঁদের চুল উঠে টাক পড়ার সমস্যা দেখা দিয়েছে, তাঁদের মেটাবলিক সিনড্রোম বা হাইপারটেশন, স্থূলত্ব বা শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা অত্যন্ত বেশি। আর এ সবই হার্টের উপর প্রভাব ফেলে।