Bonbibi Puja: আজও মুখে মুখে ঘোরে দেবীর অলৌকিক গাঁথা! সুন্দরবনের 'নিরাপদ আশ্রয়' বাঁচাতে বনবিবির আরাধনা, সর্বধর্ম সমন্বয়ে উৎসবের আবহ
- Reported by:Suman Saha
- Published by:Sneha Paul
Last Updated:
Bonbibi Puja: সুন্দরবনের এক লোকদেবী হলেন বনবিবি। তাঁর অলৌকিক মহিমার কথা আজও এলাকার জঙ্গলনির্ভর মানুষের মুখে শোনা যায়। প্রত্যেক বছর পূর্ণিমা তিথিতে সুন্দরবনের বিভিন্ন জায়গায় বনবিবির পুজো হয়।
মে-জুন মাস এলেই আতঙ্কে থাকে সুন্দরবন। কারণ অতীতে এই সময়েই ভয়ঙ্কর সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটেছে। তবে সেই সমস্ত দুর্যোগ থেকে সুন্দরবনকে আগলে রাখে তার সম্পদ, ম্যানগ্রোভ অরণ্য। তা বাঁচাতেই নিরলস কাজ করে যাচ্ছে ম্যানগ্রোভ আর্মি। মহিলাদের নিয়ে তৈরি এই দল বনবিবির আরাধনার মাধ্যমে ম্যানগ্রোভ রক্ষা করে সুন্দরবনকে আগলে রাখতে তৎপর। (ছবি ও তথ্যঃ সুমন সাহা)
advertisement
এই দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে বনবিবি পুজোর আয়োজন করা হয়। বনবিবি হলেন সুন্দরবনের এমন এক লোকদেবী, যিনি সুন্দরবন এলাকার সমস্ত ধর্মের মানুষের কাছেই পূজনীয়। তাঁর অলৌকিক গাঁথা আজও জঙ্গলনির্ভর মানুষজনের মুখে মুখে ঘোরে। প্রতি বছর পূর্ণিমা তিথিতে সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটা করে এই দেবীর পুজো হয়। সুন্দরবন এলাকায় সমস্ত ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বনবিবির পুজোয় মিলিত হন।
advertisement
গোসাবার চরঘেরিতে এই পুজোকে সামনে রেখেই সুন্দরবনকে রক্ষা করতে উদ্যোগী হয়েছেন এক ভূগোলের শিক্ষক। পুজো ঘিরে বনবিবির নানা উপাখ্যান, বনবিবি পালা পরিবেশিত হয়। সেই পালার নির্যাস, প্রকৃতি রক্ষা, নিজের লোভের জন্য জঙ্গলের ক্ষতি না করা- সেগুলিই এলাকার সাধারণ মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন উমাশঙ্করবাবু ও তাঁর সঙ্গীরা।
advertisement
বনবিবির উপাখ্যান মানুষের লোভ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। ম্যানগ্রোভের বন পাখি, মৌমাছি ও মাছের নিরাপদ আশ্রয়, তা বনবিবি উপাসনার মাধ্যমে একটি পবিত্র স্থান হিসেবে গণ্য হয়, যা বনভূমিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে। আসলে বনবিবি হলেন সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্র বা পরিবেশের রক্ষক, যার প্রতি আস্থাই এখানকার জীবন ও প্রকৃতির মেলবন্ধন ঘটায়।
advertisement
সুন্দরবনবাসীর বিশ্বাস, বনবিবি সুন্দরবনের জঙ্গলে মধু সংগ্রহ করতে যাওয়া বা মাছ, কাঁকড়া ধরতে যাওয়া মানুষদের বাঘ ও অন্য বন্যপ্রাণীর হাত থেকে রক্ষা করেন। তাই প্রতি বছরই সমস্ত রীতি মেনে সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রান্তে এই দেবীর পুজো হয়। সুন্দরবনের গভীরে, বিশেষত দোবাঁকি, মৈপীঠের মতো বিভিন্ন জায়গায় বনবিবি মন্দির রয়েছে। সেখানে বছরে একবার বিশেষ পুজো হয়। সেই সময় সাধারণ মানুষ জঙ্গলে প্রবেশ করতে পারেন। এই পুজোকেই প্রকৃতি বাঁচানোর সচেতনতার বার্তা দিতে বেছে নিয়েছেন তাঁরা।
advertisement
ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিবর্তনে সমাজ গঠনের পদক্ষেপ হিসেবে তাঁর তৈরি ম্যানগ্রোভ আর্মির সঙ্গে প্রকৃতির দৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করতে চান উমাশঙ্করবাবু। গ্রামের মহিলাদের নিয়ে তাঁর তৈরি ‘ম্যানগ্রোভ আর্মি’ ম্যানগ্রোভ রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে। নদী ও জঙ্গল অধ্যুষিত গ্রামবাসীর মধ্যে প্রাচীন সংস্কৃতি এবং আচার অনুষ্ঠানকে বাঁচিয়ে রাখা, বনবিবি উৎসবের মধ্য দিয়ে নতুন করে ম্যানগ্রোভ রোপণ করে চলেছেন ম্যানগ্রোভ আর্মির মহিলারা। (ছবি ও তথ্যঃ সুমন সাহা)





