advertisement

সমুদ্রের নীচে এত শব্দ কীসের! ক্রমশই বাড়ছে...হতে পারে বড় ক্ষতি! কোন সর্বনাশের পথে যাচ্ছে জলভাগ?

Last Updated:
ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাড়তে থাকা সামুদ্রিক শব্দদূষণ তিমি, ডলফিনসহ বহু প্রাণীর জন্য বড় আশঙ্কা নিয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞরা জাহাজের গতি কমানো ও মেরিন কোয়ায়েট জোনের পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশদে জেনে নিন।
1/10
Image সমুদ্র কেন এত শব্দ করছে? জলের তলায় বদলে যাওয়া পরিস্থিতি এখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক শব্দদূষণ সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—এই শব্দ কি কমানো সম্ভব? জলের নিচের এই অদৃশ্য পরিবর্তন কি বড় কোনও বিপদের পূর্বাভাস দিচ্ছে?
সমুদ্র কেন এত শব্দ করছে? জলের তলায় বদলে যাওয়া পরিস্থিতি এখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক শব্দদূষণ সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—এই শব্দ কি কমানো সম্ভব? জলের নিচের এই অদৃশ্য পরিবর্তন কি বড় কোনও বিপদের পূর্বাভাস দিচ্ছে?
advertisement
2/10
Image এক সময় বিশাল সমুদ্রজুড়ে ভেসে আসত তিমির সুরেলা ডাক, ডলফিনের ক্লিক শব্দ। আজ সেই প্রাকৃতিক সুরকে ঢেকে দিচ্ছে মানুষের তৈরি যন্ত্রের নিরবচ্ছিন্ন গর্জন। বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সামুদ্রিক শব্দদূষণ এখন এক বড় পরিবেশগত সংকট। প্রায় সাড়ে সাত হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং ব্যস্ত ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থানের কারণে ভারতও এই সমস্যার মুখোমুখি।
এক সময় বিশাল সমুদ্রজুড়ে ভেসে আসত তিমির সুরেলা ডাক, ডলফিনের ক্লিক শব্দ। আজ সেই প্রাকৃতিক সুরকে ঢেকে দিচ্ছে মানুষের তৈরি যন্ত্রের নিরবচ্ছিন্ন গর্জন। বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সামুদ্রিক শব্দদূষণ এখন এক বড় পরিবেশগত সংকট। প্রায় সাড়ে সাত হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং ব্যস্ত ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থানের কারণে ভারতও এই সমস্যার মুখোমুখি।
advertisement
3/10
Image কেন বাড়ছে সমুদ্রের শব্দ?বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণ মানবীয় কার্যকলাপ। বিশ্বজুড়ে ২ লক্ষ ৫০ হাজারেরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ সমুদ্রে চলাচল করে। জাহাজের ইঞ্জিন ও প্রপেলারের অবিরাম শব্দ জলের নিচে শত শত কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ব বাণিজ্যের সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে জাহাজের সংখ্যা, আকার ও গতি—সবই বেড়েছে।
কেন বাড়ছে সমুদ্রের শব্দ? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণ মানবীয় কার্যকলাপ। বিশ্বজুড়ে ২ লক্ষ ৫০ হাজারেরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ সমুদ্রে চলাচল করে। জাহাজের ইঞ্জিন ও প্রপেলারের অবিরাম শব্দ জলের নিচে শত শত কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ব বাণিজ্যের সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে জাহাজের সংখ্যা, আকার ও গতি—সবই বেড়েছে। (Represntative Image: AI) 
advertisement
4/10
তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানও বড় কারণ। সমুদ্রতলের নিচে সম্পদ খুঁজতে ‘সিসমিক এয়ার গান’ ব্যবহার করা হয়, যা কয়েক সেকেন্ড অন্তর প্রবল শব্দ বিস্ফোরণ ঘটায়। এই বিস্ফোরণ সামুদ্রিক প্রাণীদের শ্রবণশক্তি ও দিকনির্ণয়ের ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে।
তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানও বড় কারণ। সমুদ্রতলের নিচে সম্পদ খুঁজতে ‘সিসমিক এয়ার গান’ ব্যবহার করা হয়, যা কয়েক সেকেন্ড অন্তর প্রবল শব্দ বিস্ফোরণ ঘটায়। এই বিস্ফোরণ সামুদ্রিক প্রাণীদের শ্রবণশক্তি ও দিকনির্ণয়ের ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে।
advertisement
5/10
এছাড়া সামরিক সোনার ব্যবস্থা, বন্দর নির্মাণে পাইল ড্রাইভিং, অফশোর উইন্ড এনার্জি প্রকল্প এবং মাছ ধরার নৌকাও শব্দদূষণে ভূমিকা রাখছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ১৯৬০-এর দশক থেকে বহু সামুদ্রিক অঞ্চলে জলের নিচের শব্দমাত্রা প্রতি দশকে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
এছাড়া সামরিক সোনার ব্যবস্থা, বন্দর নির্মাণে পাইল ড্রাইভিং, অফশোর উইন্ড এনার্জি প্রকল্প এবং মাছ ধরার নৌকাও শব্দদূষণে ভূমিকা রাখছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ১৯৬০-এর দশক থেকে বহু সামুদ্রিক অঞ্চলে জলের নিচের শব্দমাত্রা প্রতি দশকে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। (Represntative Image: AI) 
advertisement
6/10
ভারতের সামুদ্রিক সীমানা বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রপথ। বিশেষত পশ্চিম উপকূলে সামুদ্রিক কার্যকলাপ বৃদ্ধির ফলে শব্দমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আলিবাগ উপকূলে নীল তিমি এবং তুতিকোরিনের কাছে পাইলট তিমির তীরে ভেসে আসার ঘটনাকে সামুদ্রিক শব্দদূষণ ও মানবীয় কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত করছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘ উপকূলরেখা ও ঘন নৌ-পরিবহন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ভারতের সামুদ্রিক সীমানা বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রপথ। বিশেষত পশ্চিম উপকূলে সামুদ্রিক কার্যকলাপ বৃদ্ধির ফলে শব্দমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আলিবাগ উপকূলে নীল তিমি এবং তুতিকোরিনের কাছে পাইলট তিমির তীরে ভেসে আসার ঘটনাকে সামুদ্রিক শব্দদূষণ ও মানবীয় কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত করছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘ উপকূলরেখা ও ঘন নৌ-পরিবহন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। (Represntative Image: AI) 
advertisement
7/10
সামুদ্রিক প্রাণীদের জন্য কতটা বিপজ্জনক?জলের নিচের জগৎ মূলত অন্ধকার, সেখানে প্রাণীরা শব্দের ওপর নির্ভর করে। তিমিরা নিম্ন-কম্পাঙ্কের সুরে শত শত কিলোমিটার দূরত্বে যোগাযোগ করে। ডলফিন ইকোলোকেশন ব্যবহার করে শিকার খুঁজে নেয়। মানুষের তৈরি শব্দ এই স্বাভাবিক সংকেতকে ঢেকে দিলে খাদ্য খোঁজা, প্রজনন এবং বিপদ এড়িয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়ে।
সামুদ্রিক প্রাণীদের জন্য কতটা বিপজ্জনক? জলের নিচের জগৎ মূলত অন্ধকার, সেখানে প্রাণীরা শব্দের ওপর নির্ভর করে। তিমিরা নিম্ন-কম্পাঙ্কের সুরে শত শত কিলোমিটার দূরত্বে যোগাযোগ করে। ডলফিন ইকোলোকেশন ব্যবহার করে শিকার খুঁজে নেয়। মানুষের তৈরি শব্দ এই স্বাভাবিক সংকেতকে ঢেকে দিলে খাদ্য খোঁজা, প্রজনন এবং বিপদ এড়িয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়ে। (Represntative Image: AI) 
advertisement
8/10
বিজ্ঞানীদের মতে, এর ফলে বাড়ে মানসিক চাপ, সাময়িক বা স্থায়ী শ্রবণশক্তি হ্রাস, অভিবাসন ও খাদ্যচক্রের ব্যাঘাত, এমনকি আতঙ্কে গভীরে ডুব দেওয়ার ফলে ‘ডিকম্প্রেশন সিকনেস’ বা তীরে উঠে আসার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। সংরক্ষিত প্রজাতি যেমন ডুগং ও অলিভ রিডলি কচ্ছপও ঝুঁকির মুখে। প্রভাব পড়ছে মৎস্য শিল্পেও, যার উপর নির্ভরশীল লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা।
বিজ্ঞানীদের মতে, এর ফলে বাড়ে মানসিক চাপ, সাময়িক বা স্থায়ী শ্রবণশক্তি হ্রাস, অভিবাসন ও খাদ্যচক্রের ব্যাঘাত, এমনকি আতঙ্কে গভীরে ডুব দেওয়ার ফলে ‘ডিকম্প্রেশন সিকনেস’ বা তীরে উঠে আসার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। সংরক্ষিত প্রজাতি যেমন ডুগং ও অলিভ রিডলি কচ্ছপও ঝুঁকির মুখে। প্রভাব পড়ছে মৎস্য শিল্পেও, যার উপর নির্ভরশীল লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা। (Represntative Image: AI) 
advertisement
9/10
সমাধান কি সম্ভব?বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। জাহাজের গতি কমানো হলে শব্দও কমে এবং জ্বালানি সাশ্রয় হয়। উন্নত প্রপেলার নকশা ও বিশেষ হাল কোটিং জাহাজকে তুলনামূলকভাবে নীরব করতে পারে। তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে এয়ার গানের বদলে কম শব্দ উৎপন্নকারী বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। সংবেদনশীল এলাকায় ‘মেরিন কোয়ায়েট জোন’ ঘোষণা করে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপও জরুরি।
সমাধান কি সম্ভব? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। জাহাজের গতি কমানো হলে শব্দও কমে এবং জ্বালানি সাশ্রয় হয়। উন্নত প্রপেলার নকশা ও বিশেষ হাল কোটিং জাহাজকে তুলনামূলকভাবে নীরব করতে পারে। তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে এয়ার গানের বদলে কম শব্দ উৎপন্নকারী বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। সংবেদনশীল এলাকায় ‘মেরিন কোয়ায়েট জোন’ ঘোষণা করে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপও জরুরি। (Represntative Image: AI) 
advertisement
10/10
Generated image সবুজ নৌপরিবহন নীতি গ্রহণ করে ভারত এই ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে পারে। সমুদ্র কেবল জলরাশি নয়, পৃথিবীর জীবনস্পন্দন। সেই প্রাকৃতিক সুরক্ষা বজায় রাখা এখন মানবসমাজের দায়িত্ব।
সবুজ নৌপরিবহন নীতি গ্রহণ করে ভারত এই ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে পারে। সমুদ্র কেবল জলরাশি নয়, পৃথিবীর জীবনস্পন্দন। সেই প্রাকৃতিক সুরক্ষা বজায় রাখা এখন মানবসমাজের দায়িত্ব। (Represntative Image: AI) 
advertisement
advertisement
advertisement